নাগরিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে ২৪ ঘণ্টার বেশি পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দেশটির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি কোথায়, তা জানা যায়নি। তার সঙ্গে আটক অপর নেতাদেরও খোঁজ মিলছে না। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর তারা কোথায় আছেন, বলতে পারছেন না দেশটির গণমাধ্যমগুলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সু চি কোথায়, কোনো খোঁজ নেই। খবর পাওয়া যাচ্ছে না তার সঙ্গে আটক অপর নেতাদেরও। এদিকে সোমবার দেশটির ২৪ জন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছে সামরিক সরকার। মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ১১ জনকে।
সু চি ও তার দলের নেতাদের খোঁজ না মেলায় এক ধরনের উদ্বেগ জন্মেছে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। এদিকে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হুমকি মিলেছে। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চিকে আটক করার বিষয়টি ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে দেশের উত্তরণে প্রত্যক্ষ আক্রমণ’ বলে নিন্দা করেছেন বাইডেন।
বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, দখলকৃত ক্ষমতা ছেড়ে দিতে এবং দেশটির নেতাকর্মী ও আটককৃত কর্মকর্তাদের মুক্তি দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ দিতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। পরে তার সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে এক বছরের জন্য গোটা দেশে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। আটক করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট উইন মিন্থ, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চিসহ ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বহু জ্যেষ্ঠ নেতাকে।
সোমবার ভোরে অভ্যুত্থান ঘোষণার পর পরই তাদের বাড়ি থেকে তুলে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যায় সেনাবাহিনী। আটককৃত অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন এনএলডির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হান থার মিন্থ, উ নিয়ান উইন, মুখপাত্র উ অং শিন, ইয়াঙ্গুন বিভাগের মুখ্যমন্ত্রী পিয় মিন থিয়েন, কারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নান থিন থয়ে মিন্থ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাসহ প্রথম সারির আরও কয়েকজন রাজনীতিকের খোঁজ মিলছে না। ধারণা করা হচ্ছে, তারাও সেনাবাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন। ইতোমধ্যে গোটা মিয়ানমারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রেডিও, টেলিভিশন সম্প্রচার।
রাজধানী নেপিদোসহ বড় বড় শহরে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক। নেপিদো এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গুনে বন্ধ রয়েছে বিমানবন্দর। শহর দুটির আশপাশের এলাকাগুলোর সঙ্গে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগও। রাস্তায় রাস্তায় চলছে সেনাদের কড়া টহল। রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত ট্রাক, ট্যাংক এবং আকাশে হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। পার্লামেন্ট সদস্যদের বাসভবনের বাইরে বসানো হয়েছে কড়া প্রহরা।
