নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে অবস্থিত সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলটি প্রায় একবছর যাবত বন্ধ। বকেয়া বেতন প্রদান ও মিলটি চালুর দাবীতে প্রতিষ্ঠানটির ৭ শতাধিক শ্রমিক সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচীসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছেন। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে এ অচলবস্থার সন্তোষজনক সমাধানের চেষ্টা করে আসছিলেন।
এমনবস্থায় বুধবার রাতে মালিকপক্ষ মিলের মালামাল বিক্রির চেস্টা করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঝুলিয়ে দিয়েছে মিলের প্রধান ফটকে তালা। শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের নামে কোটি কোটি টাকা ঋন নিয়ে এটি বন্ধ করার পায়তারা করছে মালিক পক্ষ।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকপক্ষ। বরিশালের অন্যতম ব্যবসায়ী পরিবার খানসন্স গ্রæপ ১৯৯১ সালে রূপাতলী এলাকায় সুতা উৎপাদনকারী মিলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলো। সেখানে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সহ¯্রাধিক লোকের কর্মসংস্থান ছিল। মিলে মোট ৩টি ইউনিটে সুতা উৎপাদন করা হতো।
মিলটি বিক্রির খবর পেয়ে বিক্ষুব্দ কয়েকশ শ্রমিক মালামাল নিতে আসা ২টি কার্গোভ্যান ও ক্রয়কারীদের একটি পাজের আটকে মিলের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে বুধবার রাত থেকে মিলের গেটে অবস্থান করছেন।
সোঁনারগাও টেক্সটাইলস শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি গাজী মো: বেল্লাল হোসেন বলেন, সর্বশেষ তাদের তালিকাভূক্ত শ্রমিক রয়েছে ৭০১ জন। এছাড়া কর্মকর্তা আছেন ৩ শতাধিক। তাদের সকলের ৬ মাসের বেতন বকেয়া রেখে গতবছর ৫ এপ্রিল লে-অফ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। সর্বশেষ ১২ জানুয়ারী বরিশাল-কুয়াকাটা সড়ক অবরোধ করা হলে মধ্যস্থতাকারী প্রশাসনের কাছে মালিকপক্ষ ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে মিল পূনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছিল।
কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাধারন সম্পাদক মো. নুরুল হক বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা বুধবার বিকালে জানতে পারেন মিলের মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। ক্রেতারা ২টি ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে দুই শতাধিক শ্রমিক সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। এসময় মালিকপক্ষের ২ জন ও ক্রেতাদের পক্ষে ৩জন সহ মোট ৫ জন টেক্সটাইল মিল এলাকায় ছিলেন।
নুরুল হক বলেন, তারা শ্রমিকদের ভূল বোঝানোর জন্য বলতে থাকেন, তারা কিছু ক্রয় করেননি, মালামাল দেখতে এসেছেন। সন্দেহ জোরদার হলে শ্রমিকরা কাভার্ডভ্যানের দরজা খুলে দেখতে পান তুলাসহ আরও কিছু মালামাল তোলা হয়েছে। এতে শ্রমিকরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠলে ওই ৫ জন পালিয়ে যান। তিনি জানান, মিলের মালিক পক্ষ বড় ধরনের ব্যাংক ঋন নিয়ে এখন এটি বন্ধ করায় পায়তারা চালাচ্ছে।
সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জেলা বাসদের আহŸায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন, গতবছর ১৬ ডিসেম্বর প্রথমবার সড়ক অবরোধ করা হলে মালিকপক্ষ কথা দিয়েছিল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্নভাবে মিলটি চালু করা হবে। তখন কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার নুরুল ইসলাম মালিকপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেছিলেন।
মালিক কথা না রাখায় ১২ জানুয়ারী আবারও সড়ক অবরোধ করা হলে জেলা প্রশাসক সৃষ্ঠ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। প্রকৌশলী রুমন বলেন, মালিকপক্ষ এখন প্রশাসনের কারো ফোন রিসিভ করেননা। গোপনে নারায়নগঞ্জের ননী সাহা নামক জনৈক ব্যবসায়ীরা কাছে মিলের কাঁচামালামাল বিক্রির চেষ্টা শ্রমিকরা প্রতিরোধ করেছে।
এসব বিষয়ে জানতে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের প্রকল্প পরিচালক সালাউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, তিনি ঢাকায় অসুস্থ। বাসা থেকে হাসপাতালে যাচ্ছেন। মিলের কোন বিষয় তার জানা নেই। মালিকপক্ষের কারো ফোন নম্বর দিতেও অপরাগতা জানান।
বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতের ঘটনার পর তিনি আবারও মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা পূর্বে দেয়া প্রতিশ্রæতির মতো আবারও বলেছেন মিলটি চালু করা হবে। ওসি বলেন, এর আগে একাধিকবার প্রতিশ্রæতি দিয়েও কথা রাখেননি মালিকপক্ষ। তাদেরকে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে সমস্যা সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীনকে ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
