বরিশালে বড় পরিসরে বিভাগী সমাবেশ করবে বিএনপি

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
সিটি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বড় পরিসরে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বরিশাল বিএনপি। আগামী ১৮ ফেব্রæয়ারী নগরীতে এ বিভাগীয় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। শুক্রবার বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত ঘোষনা করা হয়েছে। তবে বিসিসি নির্বাচনের প্রায় ৩ বছর পর ভোটে কারচুপি ইস্যুতে বিএনপি কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয়ে নেতাকর্মীরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে দলটির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, সবশেষ চট্টগ্রাম সিটির ভোটে নজিরবিহীন কারচুপির পরে বিএনপি মনে করে এর আগের সকল সিটি নির্বাচনেও যে অনিয়ম হয়েছে তা জনগনের কাছে তুলে ধরা দরকার। একই চিত্র ছিল সংসদ নির্বাচনেও। যেকারনে তারা বিভাগীয় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৮ ফেব্রয়ারী বড় পরিসরে বরিশালে এ বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। ওই সমাবেশে সারাদেশের বিএনপির সিটি মেয়র প্রার্থী, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থাকবেন।

বিএনপি নেতা সরোয়ার বলেন, তারা নিরপক্ষে ভোট চাচ্ছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আ’লীগ নিশি রাতের ভোটের পর এখন সব ধাপে নির্বাচনে কারচুপি করছে। আ’লীগ মুখে বলে তারা শক্তিশালী বিরোধীদল দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা, হামলায় কোনঠাসা করে রেখেছে। দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতাও নেই।

সরোয়ার বলেন, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে তিনি (সরোয়ার) সারাদেশের মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষনা দিয়েছেন। বরিশালে ১৮ ফেব্রয়ারীর সমাবেশে বিভাগ থেকে ব্যাপক নেতাকর্মী আনার পরিকল্পনা নেয়া হবে। সমাবেশে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি নির্বাচনে যে কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে তা প্রতিবাদ স্বরুপ জনগনের কাছে প্রকাশ করা হবে। তারা নগরীর বৃহৎ কোন স্থানে এ বিভাগীয় সমাবেশ করতে চান। যদিও প্রশাসনের অনুমতির উপর নির্ভর করবে সমাবেশের ভেন্যু ও কৌশল এমনটাই জানান সরোয়ার।

বরিশাল নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও ২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, তিনি সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। কিন্তু ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে ভোট কারচুপির সাথে প্রশাসন ও সরকারী দলের লোকজন জড়িত ছিল। ওই সময়ে একইসাথে বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছিল। অবৈধ ওই নির্বাচনের প্রতিবাদে তারা জোরালোভাবে বড় ভ্যেন্যু নিয়ে বিভাগীয় সমাবেশ করবেন। তিনি বলেন, দেশের ভোটের অধিকার চান। জনগনের এই চাওয়া আর ভোট কারচুপি তুলে ধরা হবে বরিশালের বিভাগীয় সমাবেশে।

তবে বিএনপির বরিশালের একাধিক ওয়ার্ডের নেতা ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা জানান, এমন সমাবেশ এবং প্রতিবাদ বহু আগেই করা উচিৎ ছিল। বিএনপির অনেক কাউন্সিলর প্রার্থীর বিজয় ছিল আশাব্যাঞ্জক। কিন্তু ওই সময় ভোটে যেমন প্রতিরোধ গড়া যায়নি, তেমনি প্রতিবাদও হয়নি কার্যকর।

এব্যাপারে মহানগর বিএনপির সহ সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, সিটি নির্বাচনে অনিয়ম জনগনকে জানাতে কেন্দ্রীয়ভাবে তারেক রহমানের নির্দেশে এ সমাবেশ হচ্ছে চট্টগ্রামসহ সব বিভাগীয় শহরে। বরিশালেও বিভাগীয় সমাবেশে গত সিটি ভোট কারচুপি তুলে ধরতে কর্মসুচী সফল করতে চান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *