নাগরিক রিপোর্ট:
সহসাই মিটছে না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের সাথে বাস শ্রমিকদের বিরোধ। রবিবারও সহপাঠীদের হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল এবং শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য অর্পন করে নিরাবতা পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকালের মধ্যে ৩ দফা বাস্তবায়ন না হলে ফের বড় ধরনের আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে তারা। এদিকে বাস মালিক ও শ্রমিকরা প্রতিরোধের উপায় খুজতে রাতে বৈঠকে বসছেন বলে জানা গেছে।
বিশ^বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, শহীদ দিবসে সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা সহপাঠীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নিরবতা পালন করে। দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় জড়িয়ে মৌন মিছিল করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম সুজয় শুভ বলেন, মহান ভাষা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে তারা ববি’র কেন্দ্রীয় শহীত মিনারে ফুল দিয়েছেন। ছাত্রদের উপর হামলার প্রতিবাদ সেখানে এক মিনিট নিরাবতাও পালন করেছেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে মৌন মুছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, তাদের নিরাপত্তা নেই, হামলার বিচার হয় না। তাই কালো কাপড় মুখে জড়িয়ে প্রতিবাদ স্বরুপ মৌনমিছিল করেছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত তাদের ৩ দফা দাবী পুরন না হলে সড়ক অবরোধের মত কর্মসুচী দিবেন।
বরিশাল পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন জানান, তাদের নিরিহ দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা তাদের উপর হামলার জন্য অযথা শ্রমকিদের জড়াতে চায়। ২ শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে রোববার রাতে মালিক ও শ্রমিক বসে সিদ্ধান্ত নিবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রæয়ারী দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর সাথে নগরীর রুপাতলীস্থ বিআরটিসি কাউন্টারের স্টাফের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তুচ্ছ ওই ঘটনায় কাউন্টার স্টাফ রফিক দুই শিক্ষার্থীকে লাঞ্চিত করে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রফিককে গ্রেফতারের দাবি জানায়। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার গভীররাতে রুপাতলী এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেসে গিয়ে নৃশংস হামলা চালায় বাস শ্রমিকরা। এর প্রতিবাদে গত ক’দিন ধরে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসুচীতে আন্দোলন করে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
