শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: চিকিৎক দম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) রেজিষ্ট্রার ডা. রবিন চন্দ্র হাওলাদারের বাসায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎক দম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বরিশালের উজিরপুর থানায় শনিবার মামলটি দায়ের করেন নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈর (১১) চাচা তপন বাড়ৈ। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর থানার উপ পরিদর্শক মাহতব হোসেন।


এদিকে গৃহকর্মী নিপা বাড়ৈ উজিরপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় শুক্রবার প্রত্যুষে রহস্যজনকভাবে নিঁখোজ হয়। শনিবার সকালে তাকে পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে নির্যাতনের মামলা ঠেকাতে পরিবারকে প্রভাবিত করে নিপাকে সরিয়ে দেয়ার চেস্টা চালিয়েছিল চিকিৎসক পরিবার।


এসআই মাহতব হোসেন জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে পঙ্গু হাসপাতালের রেজিষ্ট্রার ডা. রবিন চন্দ্র হালদার, তার স্ত্রী রাখি দাস এবং তাদের সহযোগী হিসাবে বাসুদেব নামক একজনকে আসামী করা হয়েছে।


জানা গেছে, উজিরপুরের বাসুদেব নামক ওই ব্যক্তির মাধ্যমে ডা. রবিন চন্দ্রের ঢাকার বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেয়া হয়েছিল নিপা বাড়ৈকে। চিকিৎসক রবিন চন্দ্রের বাড়ি একই উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামে। নিপা পাশের ইউনিয়ন হারতার জামবাড়ি গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী ননী বাড়ৈর মেয়ে। তার মা কয়েকবছর আগে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। অভাবের তাড়নায় নিপাকে ডা. রবীন চন্দ্রের ঢাকার বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেয়া হয়েছিল।


শিশু নিপার অভিযোগ, চিকিৎসকের স্ত্রী রাখি দাস ছোটখাট অজুহাতে তাকে বেদম মারধর করতো। তার গলা চেপে ধরা হতো এবং দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করতো। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রæয়ারী নিপা বাড়ৈকে মারধরের এক পর্যায়ে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চিকিৎসকের স্ত্রী। ২৩ ফেব্রæয়ারী নিপাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। বাড়িতে আসার পর স্বজনরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম দেখে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নিপা নির্যাতনের বিষয়টি জানায়। গত বুধবার রাত ১টার দিকে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করে।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শওকত আলী জানান, শিশুটিকে ভর্তির পর থেকেই নানা ধরনের লোকজন এসে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করেন। তবে তিনি পুলিশের অনুমতি ছাড়া নিপাকে নিয়ে যেতে নিষেধ করেন। শুক্রবার ভোর ৫টার পর থেকে নিপাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সামসুদ্দোহা তৌহিদ উজিরপুর মডেল থানায় সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন।


এব্যপারে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ওসি জিয়াউল আহসান জানান, নিপাকে উদ্ধারে শুক্রবার দিনভর অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পরে, নিপাকে তার চাচার মামা শ^শুর বিমল বাড়ৈর আগৈলঝাড়া উপজেলার আস্কর গ্রামের বাড়িতে রাখা হয়েছে। ভোরে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিপাকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিপা এখন থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *