মুজিবর্ষের উপহার : বরিশালে হুইলচেয়ার পেলো ফাতেমা-শহীদুল

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : ফাতেমা (২২) ও শহিদুল ইসলাম (৪০) সম্পর্কে চাচাত ভাইবোন। দুজনেই জন্মগতভাবে শারিরীকি প্রতিবন্ধী। গাইবান্ধার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমগঞ্জের হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম তাদের। স্বাভাবিক কাজকর্ম করার সক্ষমতা না থাকায় জন্মের পর থেকে ভিক্ষাবৃত্তিই তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। প্রতিবছর চরমোনাইতে দুটি বার্ষিক মাহফিলে ভিক্ষা করার জন্য গাইবান্ধা থেকে বরিশালে আসেন তারা। গত ফেব্রুয়ারীর শেষ সপ্তাহে চরমোনাইর মাহফিল শেষে তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন নগরীর লঞ্চঘাটে। এতে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে তাদের। জেলা প্রশাসনের নজরে আসায় স্বাবলম্বী হতে নগদ ৫ হাজার করে টাকা এবং দুটি হুইল পেয়েছেন তারা। জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার রোববার দুপুরে তার দপ্তরে দুই প্রতিবন্ধীকে নগদ টাকা ও হুইল চেয়ার প্রদান করেছেন।
জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কার্যাক্রমের অংশ হিসাবে তিনি প্রতিবন্ধী ফাতেমা ও শহিদুল ইসলাম প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন যাতে তারা ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। তাদের স্বাভাবিক চলাফেরার জন্য দেয়া হয়েছে দুটি হুইল চেয়ার। পর্যায়ক্রমে পুরো বরিশালকে ভিক্ষুকমুক্ত করার কথা জানান জেলা প্রশাসক।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল মহানগরের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, শনিবার একটি সংগঠনের উদ্যেগে ছিন্নমুল মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ করার জন্য তিনি লঞ্চঘাটে যান। এসময় খাবারের লাইনে দাড়ানো প্রতিবন্ধী ফাতেমা ও শহীদুল ইসলাম তার নজরে আসে। তাদের জীবনমানের করুন বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হলে তাৎক্ষনিক তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাদের পূনর্বাসন করার।
রোববার দুপুরে নগদ টাকা ও হুইল চেয়ার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় শহীদুল ইসলাম বলেন, দোয়া করি শেখ হাসিনা যেন আজীবন প্রধানমন্ত্রী থাকে। তার জন্যই আজকে এই সাহায্য পাইলাম’।
ভিক্ষা পেশায় ফাতেমা ও শহীদুল ইসলামকে বহন করে একস্থান থেকে আরেকস্থানে নিয়ে যান ফাতেমার মা আনোয়ার বেগম। তিনি বলেন, এ দুজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মেছেন। ১ ভাই ৫ বোনের মধ্যে ফাতেমা পঞ্চম। তার অন্য ভাইবোনেরা পুরোপুরি সুস্থ্য। শহীদুল বিয়ে করলেও স্ত্রী তাকে ত্যাগ করেছে। তার কোন সন্তান নেই। চাচী আনোয়া বেগমের ওপর নির্ভর করে তিনিও ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
আনোয়ারা বেগম বলেন, প্রতিবছর চরমোনাইতে দুটি মাহফিলে ভিক্ষা করার জন্য তারা গাইবান্ধা থেকে বরিশালে আসেন। মাহফিল শেষে কয়েকদিন বরিশাল নগরীতে ভিক্ষা করে আবার গাইবান্ধায় ফিরে যান। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *