নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল নগরীর প্রধান প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে ‘টপটেন মার্ট সুপার শপ’ অভিজাত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট করেছে করেছে একদল সন্ত্রাসী। রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ৩০-৩৫ জন তরুন এ হামলায় অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হামলাকারীরা কেনাকাটা করার অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটিতে ঢোকার পর কমান্ডো ষ্টাইলে তান্ডব করে পালিয়ে যায়। এসময় ধাওয়া করে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় জনতা।
নগরীর প্রধান প্রাণকেন্দ্রে ব্যস্ততম সময়ে এমন ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সদর রোড-গীর্জ্জামহল্লা সড়কের সংযোগ মুখে নবনির্মিত ‘ঈমান আলী ভবন’র নীচতলায় চলতি মাসের ১ তারিখে ‘টপটেন সুপার মার্ট’ বড় বিপনী বিতানটির কার্যক্রম শুরু হয়। লুটপাটের পর আটককৃতরা হচ্ছে- রাকিব, শাহাদত রাহান, সজীব ও শিবলু।
সুপারশপের হিসাবরক্ষক জসিমউদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ৩০-৩৫ জন যুবক একসঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। চলন বলনে স্মাট ওই যুবকদের বয়স ২৫ থেকে ৩০এর মধ্যে। তারা কেনাকাটার অজুহাতে জুতা, পোশাক, প্রশাসধনিসহ অন্যান্য পণ্যগুলো দেখে তাদের সঙ্গে আনা ব্যাগে ভরতে থাকে। জসিম উদ্দিন বলেন, আগত ওই যুবকদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে পণ্যর বিল প্রস্তুত করার জন্য বলা হয়। তবে যুবকরা নিজেদেরকে ছাত্রলীগ নেতা জসিম ও সোহাগের পরিচয় দিয়ে বলে ‘তারা আমাদের কেনাকাটা করতে পাঠিয়েছে’। যুবকদের চলাফেরা অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় সুপারশপের বিক্রয় কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক আটকে দেয়। এক পর্যায়ে যুবকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কর্মীদের হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। যুবকরা কমান্ডো ষ্টাইলে গøাস ভেঙ্গে পালিয়ে যেতে শুরু করে। এতে ওই এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পরে। মানুষজন ছোটাছোটি করতে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকর্মী মো. সাগর বলেন, একসঙ্গে ৩০-৩৫ যুবকের ঢুকে পড়ার সময় বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগছিল। ভেতরে হট্রগোল শুরু হলে প্রধান ফটক আটকে দেয়া হয়। এসময় তারা গøাস ভেঙ্গে কমান্ডো ষ্টাইলে বেরিয়ে যায়। পুরো ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১০-১২ মিনিটের মধ্যে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে ৫ জনকে আটক করেছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাদেরকে নিয়ে যায়।
তবে স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা ঘটনার সময় সাবলিল ভঙ্গিতে লুটপাট চালিয়েছে। তারা ছাত্রলীগ নেতা জসিম এর নাম বলার সময়ও হাসছিল। জসিমের প্রতিপক্ষর এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এব্যপারে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বলেন, আটক ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রতিষ্ঠানটির ভিডিও ফুটেজ দেখে ও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
