নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল থেকে ঝালকাঠীসহ ৮টি রুটে সরাসরি বাস চলাচল বুধবার দুপুর পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। ওই রুটগুলোতে আলফা মাহিন্দ্রাও চলে না। মাঝে মাঝে ৩ চাকার অটোরিকশায় যাত্রীদের বরিশাল থেকে ঝালকাঠী পৌছে সেখান থেকে অন্যত্র যেতে হয়। এর ফলে এসব রুটের শত শত মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ দাবী করেছেন, পরিবহন বাসের ক্ষতি সাধন ও শ্রমিকের বিচার না হওয়ায় পর্যন্ত তারা সমঝোতায় বসবেন না। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল থেকে এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত রুপাতলী বাস টার্মিনালে খোজ নিয়ে জানা গেছে, আগের দিনের মতই বরিশাল থেকে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, খুলনাসহ ৮ রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানকার একাধীক যাত্রী জানান, রুপাতলী থেকে কিছু অটো রিকশা চলে। তাতে চড়া ভাড়ায় ঝালকাঠী ১৭ কিলোমিটার গিয়ে সেখান থেকে পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, খুলনা যেতে হয়।
বরিশাল বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোর্শেদ জানান, তার পরিবার পিরোজপুর বেড়াতে গিয়ে সেখানে আটকা পড়েছেন। সরাসরি বাস না চলায় বিপাপকে পড়েছেন। বাস কখন চলবে তারও কোন তথ্য পাচ্ছেন না। আমতলার বাসিন্দা ঝালকাঠীর একটি সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, পরিবহন মালিকদের কাছে যাত্রীরা এখন জিম্মী। তিনি বলেন, মাহিন্দ্রা আর বাস শ্রমিকরা সকলেই এক। এখন তাদের নিজেদের সাথে দুর্ভোগের খেসারত দিতে হচ্ছে জনগনকে।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মমিন কালু বুধবার দুপুর ১টায় বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী ওসি ধর্মঘটের ঘটনায় ঝালকাঠী ও বরিশাল বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে বসার আহবান জানান। কিন্তু দুর্ভোগ সৃস্টির জন্য দায়ী সুমন মোল্লা আলফা মাহিন্দ্রার নেতা নয়। তারা আলফা মান্দ্রিার মুল নেতাদের ছাড়া বসবেন না। যেকারনে বরিশাল থেকে ঝালকাঠীসহ সরাসরি ৮ রুটে বাস চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, সোমবার রাতে রুপাতলী বাসটার্মিনালে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির অনেকগুলো গাড়ির চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়ে মালামাল লুট ও শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় বরিশাল মাহিন্দ্র মালিক সমিতির সভাপতি সুমন মোল্লার নেতৃত্বে একদল শ্রমিক। এ ঘটনায় ঝালকাঠির বাস শ্রমিকরা অনির্দিস্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। অন্যসব রুটের নেতৃবৃন্দ এ সিদ্ধান্তের সমর্থন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বরিশালের রুপাতলী বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, ঝালকাঠীর সাথে বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, যে ঘটনার কারনে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে তাতে আলফা মাহিন্দ্রার মুল নেতৃত্ব জড়িত না। বহিরাগতরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি সমস্যা সমাধানে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। অবশ্য এখন পর্যন্ত কোন সমাধান হয়নি।
এব্যপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বুধবার দুপুর সোয়া ১টায় বলেন, বাস চলাচলের ক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি নেই। তিনি এখন রুপাতলী বাস টার্মিনালে অবস্থান করছেন। চেস্টা করছেন সমঝোতার।
