ইয়াসের প্রভাবে বরিশালের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
ঘূর্নিঝড় ইয়াস এবং পূর্নিমার প্রভাবে বরিশালের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বেড়েছে কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীর পানি। ঝড়ের প্রভাবে বরিশালে সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃস্টি মঙ্গলবার বিকেলে পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে। এরপরও নগরীর আবহাওয়া ছিল গুমোট। এতে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ ক্রমশই বাড়ছে। ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুুতি কেন্দ্রের বরিশালের উপ পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, ঘূর্নিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় বিভাগের ৬ জেলায় ৩৩ হাজার ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুুুত রয়েছেন।

হঠাৎ করেই কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন নগরীর ইয়াসের প্রভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পানি উঠেছে মঙ্গলবার সকাল থেকে। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর ও খ্রিষ্টান পাড়ার মধ্যের বিসিসির পাকা সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। একই অবস্থা নগরীর রুপাতলী, চাদমারী, পলাশপুর, তালতলী এলাকার। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন।
জিয়ানগরের বাসিন্দা মো. ফাইজুল ইসলাম সজল বলেন, শহর রক্ষা বাধ না থাকা ও জমি থেকে সড়ক উচুকরে নির্মান না করায় স্বাভাবিক জোয়ারেও আমাদের বসাবাড়ী ও সড়ক প্লাবিত হয়। যা দেখার কেউ নেই। আমরা পানিতে প্লাবিত হলেও কর্পোরেশন থেকে কেউ কখোনো খবর নেয়নি বা দেখতেও আসে না।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘুর্নিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে ২ নং সতর্ক সংকেত দেখানো হচ্ছে। বরিশালে বৃষ্টিও হচ্ছে থেমে থেমে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৩.২ মিলিমিটার বৃস্টি হয়েছে। তবে তাপমসাত্রা তেমন একটা কমেনি। ৩২.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিল মঙ্গলবারও। গুমট আবহাওয়ার কারন সাগরে ঘূর্নিঝড় ইয়াস সৃস্টি হয়েছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, কীর্তনখোলা নদীর পানি ছুইছুই করছে। জেলার মেঘনা ঘেরা হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদীর নি¤œাঞ্চলে পানি বেড়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় আসপাশের এলাকায় তা প্রেবেশ করছে। এর ফলে ওইসব এলাকার মানুষের মধ্যে নানা শংকা দেখা দিয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, ঘূর্নিঝড় এবং পূর্নিমার প্রভাবে কীর্তনখোলা নদীতে পানি বাড়ছে। সোমবার কীর্তনখোলা নদীতে পানির লেবেল ছিল সর্বোচ্চ ১.৯৩ মিটার। মঙ্গলবার যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১.৯৫ মিটারে। কীর্তনখোলার ডেঞ্জার লেভেল হচ্ছে ২.৫৫ মিটার। তিনি বলেন, পানি বাড়ায় প্রতি ৩ ঘন্টা পরপর তারা তথ্য নিচ্ছেন।

ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুুতি কেন্দ্রের বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, তার দপ্তরের আওতাধীন বিভাগের ৬ জেলায় ৩৩ হাজার ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুুুত রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত ৪ নম্বরে উঠলে স্বেচ্ছাসেবকরা উপকূলের জনপদে মাইকিং করে ঘুর্ণিঝড়ের সতর্ককর্তামুলক প্রচার চালানো শুরু করবেন। প্রয়োজনবোধে তারা ঝুকিপূর্ন এলাকার বাসিন্দা ও গবাদীপশু আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন।

তিনি বলেন, জেলার ১০ উপজেলায় সেচ্ছাসেবক না থাকায় মেঘনা ঘেরা হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অবশ্য সোমবার বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল ভার্চূয়াল সভা করে ঘূর্ণিঝড়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজ খবর নেন এবং দিক নির্দেশনা দেন। সভায় প্রয়োজন মনে করলে উপকূলের ঝুকিপূর্ন এলাকার বাসিন্দাদের বাধ্যতামুলক আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *