নাগরিক ডেস্ক:
বরিশাল নগরীতে আলোচিত-সমালোচিত মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি এবং মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধরন সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্র্য্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গুঞ্জন রয়েছে, সম্প্রতি বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় জসিমকে মহানগরের সভাপতি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অব্যাহতি প্রাপ্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
২০১১ সালে সভাপতি-সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদ নিয়ে ৩ সদস্যের মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির একমাত্র সভাপতি জসিমউদ্দিন সক্রিয় ছিলেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করার অভিযোগে এক কলেজ ছাত্রী গত ১৯ এপ্রিল জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করার পর জসিম উদ্দিন আত্মগোপন করে। এরপরই এ কমিটি বাতিল করা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় জসিম উদ্দিনকে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি এবং মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ায় মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারন সম্পাদক ভট্টাচার্য্যরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং খুদেবার্তা দেয়া হলে তারা সারা দেননি।
এদিকে মহানগর কমিটি বিলুপ্তির হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌছিক আহমেদ রাহাত ফেসবুকে তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘৪ বছর আগে থেকে মহানগর ছাত্রলীগেহর কমিটি থেকে নিস্ক্রিয় ছিলাম। তখন থেকেই মহানগর ছাত্রলীগের ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে পরিচয় দিতাম। আজ কাগজ-কলমে সাবেক হলাম’।
প্রসঙ্গত ৩ সদস্যের মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক অসীম দেওয়ান স্থানীয় গ্রæপিংয়ের কারনে ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন। প্রায় একই সময়ে সাংগঠনিক সম্পদক তৌছিক আহমেদ রাহাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদে যোগদেন। সভাপতি জসিম উদ্দিনও দলীয় প্রতিপক্ষের চাপের ছিলেন কোনঠাসা। গত ১৯ এপ্রিল ধর্ষন মামলার আসামী হয়ে তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান।
