নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল সদর উপজেলা চরমোনাই ইউনিয়নে রেকর্ডিয় সম্পত্তির ভেতর খাল খননের অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে। ইউনিয়নের রাজারচর ও ডিঙ্গামানিক গ্রামের বাসিন্দারা এ অভিযোগ জানিয়ে গতকাল শনিবার বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
গ্রামবাসীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার বলেন, ডিঙ্গামানিক থেকে রাজারচর পর্যন্ত খালের ৪ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার পুন:খননের উদ্যেগ নিয়েছে পাউবো। তারা খননের জন্য খালের প্রশস্ততা ৫৫ ফুট নির্ধারন করে লাল নিশানা টানিয়ে দিয়েছেন। গ্রামবাসীর দাবী, পূর্বের অধিগ্রহন অনুযায়ী খালের প্রকৃত প্রশস্ততা হচ্ছে ২৬ ফুট। খালের দুপাশে স্থানীয়দের রেকর্ডীয় সম্পত্তি অন্তর্ভূক্ত করে ৫৫ ফুট প্রশস্ততা নির্ধারন করে খাল খননের উদ্যেগ নেয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছেন।
এতে কমপক্ষে ১২০০ পরিবার তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি হারাবেন। এমনকি যারা অল্প জমির ওপর বসতঘর করেছেন তারা গৃহহীন হয়ে যাবেন।
গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, খালের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের বিএস রেডর্ডীয় সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে পাউবোর নির্ধারিত ঠিকাদার খনন কাজ শুরু করার জন্য বেকু মেশিণ স্থাপন করেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে গ্রামের লোকজন গত ২৪ মে বরিশাল নগরীর পাউবো দপ্তরে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের সঙ্গে অসাদরচন করেছেন। একইদিন তারা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখভাল করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পাউবোর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাসের মুঠোফোনে একাধিবার কল দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি এসাহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, রেকর্ডীয় জমিতে খাল খননের অভিযোগ নিয়ে গ্রামের লোকজন তার কাছে এসেছিল। তাদের সামনেই তিনি পাউবোর এক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন। ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে তাদের অধিগ্রহন করা জমিতে খালের প্রশস্তা আছে ৩০ ফুট। চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, তিনি পাউবো কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছেন যতটুকু অধিগ্রহন করা জমি রয়েছে ততটুকু খনন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট জমি মালিককে ক্ষতিপুরন দেয়া ছাড়া অতিরিক্ত খনন করা যাবে না। এ নিয়ে যেকোন পরিস্থিতিতে তিনি জনগণের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
