নাগরিক রিপোর্ট:
পিয়ারা বেগম (৩৮) এখন প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী। ১১ বছর বয়সে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী থাকার সময় স্কুল থেকে তাকে ধরে এনেছিল পুলিশ। পানিতে ডুবে চাচাতো বোনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয় তার। ২৬ বছর কারাভোগের পর গত ১০ জুন তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কৃষকের মেয়ে পিয়ারা বরিশাল কারাগারে থাকতে বাবাকে হারিয়েছেন। হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় স্বজনরাও তার তেমন খোঁজ খবন নেননি। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কিভাবে জীবন চালাবেন বুঝতে পারছিলেন না পিয়ারা বেগম।
বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার পিয়ারা বেগমের জীবন কাহিনী শুনে ভবিষ্যত বিবেচনায় তাকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রæতি দেন। বুধবার তাকে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর পাশাপাশি দেয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। চাকুরীর নিয়োগপত্র ও সেলাই মেশিন পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পিয়ারা বেগম।
বৃহস্পতিবার তার মতো আরও ৩ জন বরিশাল জেলা প্রশাসকের কল্যানে পেয়েছেন নতুন জীবনের সন্ধ্যান। তারা সকলে সম্প্রতি কারামুক্তি পেয়ে জীবন-জীবিকা নিয়ে হতাশার মধ্যে ছিলেন। তারা কেউ পেয়েছেন ভ্যানগাড়ি আবার কেউ পেয়েছেন সেলাই মেশিন।
বরিশালের হিজলা উপজেলার ৬৪ বছরের বৃদ্ধ ভ্যানচালক আব্দুর রহমান মাঝি চুরি মামলায় একবছর কারাদন্ড ভোগ করে সম্প্রতি মুক্তি পান। তারপর স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তিনিও পড়েছিলেন হতাশার মধ্যে। জেলা প্রশাসক বুধবার তাকে একটি ভ্যান উপহার দিয়েছেন। একই উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের ৩৩ বয়সী গৃহবধু খালেদা আক্তার স্বামী হত্যা মামলায় চার বছর কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন।
খালেদা আক্তার জানান, তিনি চট্রগ্রামের মেয়ে। স্বামীকে সর্বহারা নামধারী সন্ত্রাসীরা খুন করলে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ৪ বছর পর কারামুক্তি পেয়ে ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে তিনি একটি সেলাই মেশিন উপহার পেয়েছেন।
মাদক মামলায় ৩ বছর কারাভোগ করে একমাস আগে মুক্তি পাওয়া বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার আয়েশা আক্তারও (৩৩) পেয়েছেন একটি সেলাই মেশিন। মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনার সংকল্প করেছেন আয়েশা আক্তার।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, কারাগারের অভ্যন্তরে অপরাধী সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতি, সমাজসেবা অধিদফতর এবং বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্যেগে সদ্য কারামুক্তি হওয়া ৪ জনকে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
