ছাত্রলীগের বাঁধা: মুলাদীতে পানি সরবরাহের কাজ বন্ধ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের মুলাদী পৌরসভার সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা। মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ জুয়েল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইমামের বাধায় কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা মঙ্গলবার মুঠোফোনে কল দিয়ে পাইপ স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার মো. কামাল হোসেন। বিষয়টি তিনি মুলাদী পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট মহলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।


জানা গেছে, দেশের ২৩টি পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় মুলাদী পৌর শহরে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ১৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন বরগুনা জেলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ।


প্রতিষ্ঠানটির সত্ত¡ধিকারী মো. কামাল হোসেন জানান, শ্রমিকরা গত ২৫ জুন মুলাদী পৌর এলাকায় পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ জুয়েল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইমাম শ্রমিক ও তদারকিতে থাকা লোকজনদের নানাভাবে হয়রানি শুরু করেন।


গত ২৮ জুন স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তারিকুল হাসান মিঠু খানের বাড়ির সামনে পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ চলার সময় ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের আহমেদ জুয়েল এবং মেহেদী হাসান ইমাম এসে শ্রমিক ও লোকজনদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। দুই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় না করে একটি পাইপও স্থাপন করা যাবে না। ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা মঙ্গলবার পুনরায় কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী রুবেল হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে কাজ বন্ধ করে দেন।


ঠিকাদার মো. কামাল হোসেন বলেন, এতে পাইপ কাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা ভীত সভ্রন্ত হয়ে পড়ে কাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি মুলাদী পৌর মেয়র শফিকউজ্জামান রুবেলকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বলেছেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ, র‌্যাব-৮ বরিশালসহ বিভিন্ন দফতরে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


মুলাদী পৌরসভার মেয়র শফিকউজ্জামান রুবেল বলেন, পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি ঠিকাদার তাকে মোবাইল ফোনে জানিযেছেন। তিনি ঠিকাদারকে আইনের আশ্রয় নিতে পরমর্শ দিয়েছেন।


অভিযুক্ত মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ জুয়েল জানান, প্রকল্পের কাজটি মানসম্মতভাবে হচ্ছে কি-না তা জানার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তারিকুল হাসান মিঠু খান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বসতে চেয়েছেন। তাদেরকে কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার জন্য বলা হয়েছে মাত্র। কাজ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ অসত্য বলে দাবী করেছেন জুবায়ের।


এব্যপারে মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান মিঠু খান জানান, তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলীকে ডেকে ভাল মানের পাইপ স্থাপনের জন্য বলেছেন। যাতে ভবিষ্যতে পৌরবাসীর দুর্ভোগ না হয়। এর বেশী কিছু ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *