নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের হিজলায় আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের বিরোধের জেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পংকজ নাথের অনুসারী স্থানীয় সরকার পরিষদের জনপ্রতিধিরা উপজেলা প্রশাসনের সকল সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবনির্বাচিত মেম্বরদের শপথ অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর রাতে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এর জের ধরে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত খাসজমি বন্দোবস্ত ও আশ্রায়ন প্রকল্প কমিটির সভায় অংশ নেননি এমপি পংকজ নাথের অনুসারী উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। এদিকে বুধবারে ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা সকলে এমপি বিরোধী গ্রæপের ছাত্রলীগ কর্মী।
হিজলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামীলীগের আহŸায়ক নাজমা বেগম বলেন, বুধবার সংঘর্ষ চলাকালে দলের প্রতিপক্ষ গ্রæপ তাদের প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেছে। এসময় অপর ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হেসেনের কক্ষ ভাংচুর করা হয়। কোন সভা সমাবেশে এমপি পংকজ দেবনাথের নাম উচ্চারন না করার জন্য হুমকি দিয়েছেন প্রতিপক্ষরা।
এতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় এমপির অনুসারী জনপ্রতিনিধির উপজেলা পরিষদের কোন সভায় অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেমানিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির হাওলাদার একই কথা জানিয়ে বলেন, উপজেলা পরিষদে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিষদে যাবেন না।
এমপি বিরোধী গ্রæপের নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বড়জালিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন হাওলাদার বলেন, বুধবার মেম্বরদের শপথ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা করলে তারা শান্ত করেছেন। এসময় ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষে হামলা কিম্বা কোন জনপ্রতিনিধিকে হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছেন।
এনায়েত হোসেন হাওলাদার বলেন, বুধবারের ঘটনায় তার দুই ছেলে ও আত্মীয় স্বজনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী রেজা, শাকিল ও বলরামকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ বলেন, কোন পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদের সভা বর্জন করেছেন কি-না বিষয়টি তার জানা নেই। কেউ তাকে এসব বিষয়ে অবহতিও করেননি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত হিজলার চারটির ইউপি নির্বাচনের সবগুলোতে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন এমপি বিরোধী গ্রæপের আওয়ামীলীগ নেতারা। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এমপি অনুসারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। নির্বাচনে দুটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী এবং দুটি ইউনিয়নে এমপি অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
