নাগরিক রিপোর্ট : পাওনাদারের বসতঘরের সামনে মৃতদেহ রেখে পাওনা টাকা আদায়ে ভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মৃত সুনীল দাসের (৫৭) পরিবার। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার লাশ পাওনাদার ইউসুফ মল্লিকের বাড়ির সামনে রেখে আজাহারী করেন মৃত সুনীল দাসের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুরে শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
সুনীল দাসের স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, ইউসুফ মল্লিকের কাছে ৮ লাখ টাকা পাবেন সুনীল দাস। নানা তালবাহানা করে টাকা দেননি ইউসুফ মল্লিাক। ক্যান্সাওে আক্রান্ত সুনীল অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় শুক্রবার সকালে মারা যান। তিনি আলীপুর বন্দরে লন্ড্রির ব্যবসা করতেন।
সুনীল দাসের স্ত্রী মাদুরী দাস (৫০) জানান, ১৪ বছর আগে ইউসুফ মুসুল্লীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকায় ৯ শতকের একটি ভিটিজমি ক্রয় করেন সুনীল দাস। কিন্তু জমি বুঝে না পাওয়ায় দীর্ঘবছর ধরে টাকা ফেরৎ চেয়ে আসছিলেন সুনীল দাস। টাকার শোকে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসার জন্য বার বার টাকা চাইলেও ইউসুফ তা দেননি।
এদিকে, বসতঘরের সামনে মৃতদেহ রাখার খবরে ইউসুফ মুসুল্লী তার পরিবারসহ পালিয়ে যান। ইউসুফ মুসুল্লী মোবাইল ফোনে পালানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, সুনীল তার কাছে ৫ লাখ টাকা পাবেন। এ মুহূর্তে আমার হাতে টাকা নেই। আগামী এক মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে দিবেন।
ইউসুফের বসতঘরের সামনে লাশ রেখে আহাজারির খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পাওনা টাকা আদায়ের আশ^াস দেন। সৎকারের জন্য বিকাল ৫টায় স্বজনরা লাশ নিয়ে ফেরত যান।
লতাচাপলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনসার মোল্লা জানান, সুনীল দাসের পাওনা টাকা আদায়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে শালিস করেছেন। ইউসুফ মুসুল্লী টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও পরে আর টাকা দেননি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত সুনীলের পরিবারকে আইনী সহায়তা দেবার আশ^াস দিয়েছি। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, সুনীলের লাশ সৎকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা আদায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। ###
২০২১-০৭-২৪
