নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালে আওয়ামীলীগ ও প্রশাসনের মধ্যে টানা চারদিনের রূদ্ধশাস পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে রোববার রাতে বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের সরকারি বাসভবনে সমঝোতা হয়। সকল ভূলবোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আগামীতে একসঙ্গে পথ চলতে সম্মত হয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা।
তবে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, পুরো ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যথায় একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশংকা থাকে। আবার বুধবার রাতের ঘটনাসহ আগে-পরের ঘটনাগুলোর বিচার না হলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হবে। অনেকে মনে করেন, ঘটনার পর দুপক্ষের মামলা-মোকাদ্দমার মধ্যেও অল্প সময়ের মধ্যে সমঝোতা করে যেভাবে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এটি ভাল উদাহরন। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
তাদের কেউ কেউ মনে করেন, পুরো ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত। অন্যথায় একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশংকা থাকে। আবার বুধবার রাতের ঘটনাসহ আগে-পরের ঘটনাগুলোর বিচার না হলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হবে বলে তারা মনে করেন। কারো কারো মতে, ঘটনার পর দুপক্ষের মামলা-মোকাদ্দমার মধ্যেও অল্প সময়ের ব্যবধানে সমঝোতা করে যেভাবে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এটি ভাল উদাহরন। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলার সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নীলু বলেন, সমঝোতা করা অনিবার্য্য ছিল। কারন আওয়ামীলীগ ও প্রশাসন এখন পরস্পরের পরিপূরক হয়ে গেছে। তাই উপর মহলের নির্দেশে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হয়েছে।
বাসদের জেলা সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, এ ধরনের সমঝোতা আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভাল উদাহরন নয়। যেকোন অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত। অন্যথায় আইনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়।
জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, সমঝোতায় আমরা খুশি। তবে মানুষ বলছে আইন আইনের গতিতে চলেনা। সমঝোতার পথে চলে। জেলা গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট হিরণ কুমার দাস মিঠু বলেন, মামলা-পাল্টা মামলার মধ্যেও সমঝোতা করে শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজটি ভাল। এতে মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, বুধবার যা ঘটেছে তা অতীতে বরিশালে ঘটেনি। ঘটনার বিচার হওয়া উচিত ছিল। জেলা জাসদ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই মাহবুব বলেন, ঘটনার পর মানুষের মধ্যে ভয়-শংকা কাজ করছিল। সমঝোতা হওয়ায় সেটি দুর হযেছে। এটি বরিশালবাসীর জন্য মঙ্গলজনক।
প্রবীন সাংবাদিক এসএম ইকবাল বলেন, যেকোন বৈরীতা নাগরিক জীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে। তাই সমঝোতা হয়ে ভাল হয়েছে। বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমম্বয় পরিষদের সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ বলেন, জনগনের স্বার্থের কথা ভেবে যে উদ্যেগ নেয়া হয়েছে সেটা যেনো টেকসই হয়। নতুন করে যেন আর ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা সাধারন সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসনে শিবলু বলেন, সমাজে শান্তির স্বার্থে সমঝোতা ভাল। তবে এ সমঝোতা যেন মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয় এবং দৃর্বৃত্তরা ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনারাবৃত্তি করার দু:সাহস না পান এজন্য সকল মহল থেকে টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে সদর আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের স্থাপন করা বিলবোর্ড-ব্যানার বুধবার রাত ১০টায় সিটি করপোরেশনের কর্মী পরিচয়ে অপসারন করতে যায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল কর্মী। এসময় প্রথমে আনসার সদস্যরা ও পরে ইএনও মো. মুবিবুর রহমান বাঁধা দিলে তার বাসভবনে হামলা করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীর। এর জের ধরে রাত ২টা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ইউএনও এবং পুলিশের দায়ের করা মামলায় জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু এবং সিটি কাউন্সিলর ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাইয়েদ আহমেদ মান্না সহ ২১ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দী রয়েছেন।
২০২১-০৮-২৪
