নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গিরের সাথে স্থানীয় এক কাউন্সিলরের ৯ মিনিটের কথোপকথন নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ওই অডিও কল রেকর্ডে বরিশাল সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনেছেন নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব। এসময় আ’লীগ সভাপতি নিজেও এমন ঘটনার শিকার বলে মন্তব্য করেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর বিপ্লবকে আমন্ত্রণ জানাতে নগর সভাপতি জাহাঙ্গির ফোন করলে মেয়র সাদিককে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকটা বোমা ফাটান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী কাউন্সিলর বিপ্লব।
কথোপকথনের এক পর্যায় কাউন্সিলর বিপ্লব আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গিরকে বলেন, ‘আমরা তো ৯০ সালে বিএম কলেজে বোমা মারা প্লেয়ার, মুরব্বিদের সম্মান করা শিখছি। জাহাঙ্গীর ভাই আপনি আমার মুরব্বি।’
কাউন্সিলর বিপ্লব বলেন, ‘বরিশাল ক্লাব থেকে বের হয়ে যারা বলছে, হাসনাতের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ বলছে, তাদের নিয়ে মেয়র সাদিক বরিশালে রাজনীতি করেন। আমাদের লাগবে কিসে? আমরা ৮৭ সাল থেকে এই সংগঠন করছি, তখন ছিলেন কোথায় সাদিক?
করোনা দুর্যোগের বিষয়টি সামনে এনে কাউন্সিলর বিপ্লব বলেন, ‘করোনায় হাজার হাজার টন চাল, টাকা দিয়েছে সিটি করপোরেশনকে সরকার। অথচ আমাদের এক ছটাক চাল দেয়নি। মেয়র সমস্ত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেন। বিপ্লব বলেন, মেয়রের সাথে আমাদের কোন আপস নেই।
তিনি বলেন, জামায়াত বিএনপি ক্ষমতায় এসে আমাদের মেরে ফেলবে। মেয়র আমাদের যে অবস্থায় নিয়ে রাখছে তাতে আমাদের মেরে ফেলা ভালো। বিপ্লব আক্ষেপ করে বলেন, রাজিবা, গ্যাস্টিক বাবু, জিয়ার মত মেসের ছেলেদের নিয়ে মেয়র রাজনীতি করেন, এটা মানা যায় না।
কাউন্সিলর বিপ্লবের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিপ্লব তুমি যে অভিযোগ দিলা, আমি সেই অভিযোগটা দেয়ার জায়গা পাই না, তোমাদের সাথে যা করে আমার সাথে তা কি করে না?’
আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গীর এসময় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে বিপ্লব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কর্মসুচী আমরা আমাদের মতো পালন করতেছি। মেয়র আমাদের যেইভাবে মূল্যায়ন করছে আমরাও তাকে সেইভাবেই মূল্যায়ন করবো।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বিপ্লবকে ধৈর্য্য ধরতে বললে, জবাবে বিপ্লব বলেন, ‘ধৈর্য্য তো সাড়ে তিন বছর ধরছি, আরও ধৈর্য্য ধরবো। আমরা ধৈর্য্য ধরবো আর গ্যাস্টিক বাবুর মতো লোক সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে ঘোরবে। বিপ্লব বলেন, মেয়র সাদিক জনগণের প্রতিনিধি, কাউন্সিলররাও জনগণের প্রতিনিধি। অথচ আমাদের মূল্যায়ন করেনি গত সাড়ে তিন বছরে।
কথোপকথনের শেষ অংশে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.কে.এম জাহাঙ্গীর জিয়াউল হক বিপ্লব এর কথায় একমত পোষন করে মেয়র সাদিকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দোয়া করো আরও বড় হোক।’
এ বিষয়ে সিটি কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব অকোপটে কথোপকথন স্বীকার করে বলেন, ‘আমি আমার জীবনের কথা আ’লীগ সভাপতির সাথে শেয়ার করেছি। যা বলেছি তা শতভাগই সত্য। আমি একটা কথাও মিথ্যা বলিনি। গত সাড়ে ৩ বছরে কোন মুল্যয়ন করা হয়নি ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের। এই করোনায় এক ছটাক চাল বা অর্থ কাউন্সিলররা পাননি।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গিরকে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে মহানগর আ’লীগর সহ সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, তিনি সভাপতির কথোপকথন নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে কাউন্সিলর বিপ্লব যেসব মেয়রকে নিয়ে বলেছেন তা উচিত হয়নি। তার অভিযোগও সঠিক নয়।
