নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে টানা তিন মেয়াদের ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম সদরের কাগাশুরা মাধমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক। গত ১৩ বছর যাবত ভাইস চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় তিনি ১২ বছরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা এবং উপজেলা পরিষদ থেকে সম্মানি নিয়েছেন। যা স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী পুরো আইনবর্হিভূত। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের জন্য দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দূদক) কেন্দ্রীয় দপ্তরে সুপারিশ প্রেরন করেছে বরিশাল দূদক। সংশ্লিষ্ট সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দূদক সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল দূদকের উপ সহকারী পরিচালক আব্দুল লতিফ হাওলাদার সম্প্রতি ভাইস চেয়ারম্যান রেহানার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক হিসাবে উভয় প্রতিষ্ঠান থেকে অনৈতিকভাবে সরকারী বেতন-ভাতা ভোগ করায় তার বিরুদ্ধে দ-বিধি ৪২০/৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৫(২) দুটি মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে ভাইস চেয়ারমান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা নিচ্ছিলেন রেহেনা বেগম। তার বিরুদ্ধে দূদক তৎপর হওয়ার পর একবছর আগে তিনি উপজেলা পরিষদের সম্মানি নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এর কারন জানতে সদর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) দুইদফায় শোকজ নোটিশ দিলেও কোন জবাব দেননি রেহেনা বেগম।
সুত্রগুলো জানিয়েছে, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য রেহেনা বেগম ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর কাগাশুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ থেকে এক বছরের জন্য ছুটি নিয়েছিলেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে ভাইস চেয়ানম্যান নির্বাচিত হলে তিনি ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০১১ পর্যন্ত ২৭ জুলাই পর্যন্ত দুই বছর বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর করান। তবে তিনি দুই বছরে বিদ্যালয় থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৬ টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। ভাইস চেয়ারম্যান থাকাবস্থাতেই রেহেনা বেগম ২০১১ সালের ২৮ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের উপজেলা নির্বাচনেও তিনি আবারও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা এবং উপজেলা পরিষদের সম্মানি ভোগ করেন।
দূদকের তদন্তে জানা গেছে, ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম বিদ্যালয় থেকে বেতন ভাতা বাবদ ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৭৩ টাকা এবং সম্মানি হিসাবে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে ২০১১-২০১৯ পর্যন্ত ১৯ লাখ ২০ হাজার ৪৬৮ টাকা উত্তোলন করেছেন।
সদর ইউএনও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, রেহানা বেগম গত একবছর যাবত উপজেলা পরিষদ থেকে সম্মানী নিচ্ছেন না। সদ্য বিদায়ী ইউএনও মুনিবুর রহমান এর কারন জানতে ভাইস চেয়ারম্যানকে শোকজ নোটিশ করেছিলেন। তিনি কোন উত্তর দেননি। সর্বশেষ গত ২৯ ডিসেম্বর উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় আমিও (মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান) সম্মানী না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম বলেছেন তিনি আর সম্মানি নেবেন না। এর প্রেক্ষিতে তাকে একমাসের সময় দিয়ে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। ইউএনও মনিরুজ্জামান বলেন, রেহেনা বেগম দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি রাজস্ব ভোগ করলে চাকুরী বিধি লংঘন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে রেহানা বেগম মুঠোফোনে কল দিয়ে প্রসঙ্গ তুলতেই ‘আমি ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব’ বলে ফোন কেটে দেন। তবে তিনি স্থানীয় একাধিক সাংবাদিককে বলেছেন, ‘আমি বৈধভাবেই দুই জায়গা থেকেই বেতন নিচ্ছি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত আমার বেতন নেয়াকে বৈধ বলেছে। তবে আমি গত এক বছর যাবত উপজেলা পরিষদ থেকে সম্মানী নিচ্ছি না। আগামীতে হজ্বে যাব। তাই মানসিক প্রশান্তির জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুসারে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনত কোনো বাধা নেই। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫-০১-১৯৮৬ তারিখে জারিকৃত নির্দেশনায় উল্লেখ্য আছে শিক্ষকরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিনাবেতনে ছুটি ভোগ করবেন।##
২০২২-০১-০৩
