নাগরিক রিপোর্ট:
বরিশালের মেহন্দীগঞ্জে মহিলা দলের কর্মী সভায় স্থানীয় ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিকলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযাগ উঠেছে। এতে প্রায় ১০জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এসময় সভাস্থলের চেয়ার-টেবিল ভেঙ্গে তছনছ করা হয়। মহিলা দল অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা নারী কর্মীদের ন্যাক্কারজনকভাবে লাঞ্চিত ও গালিগালাজ করে মুঠোফোন ও স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার ৯নং চুনারচর ওয়ার্ডের শুক্কুর বেপারীর বাড়ির উঠানে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় এ হামলায় স্থানীয় সাংসদের অনুসারীরা জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলে ওই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করেছে।
হামলায় আহতরা হচ্ছেন- মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ন আহবায়ক রাশেদা বেগম বিউটি, রাবেয়া বেগম, শিল্পি বেগম, নগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি শরীফ তাসলিমা কালাম কলি, হোসনে আরা বেবি, আরজু বেগম, সাবেক ছাত্রদল নেতা নূরে আলম বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মামুন রশিদ জমাদ্দার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আমজাদ হোসেন পোদ্দারসহ ১০জন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার স্টিমারঘাট সংলগ্ন শুক্কুর ব্যাপারীর বাড়ির উঠানে উপজেলা মহিলা দলের কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। সভা শুরুর পরপরই ২০-২৫ জন যুবক সভাস্থলে এসে আতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা সভায় অংশগ্রহণকারী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটায়। চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বরিশাল উত্তর জেলা মহিলা দল সাধারন সম্পাদক হোসনে আরা বেবি বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বাড়িতে সভায় অংশ নেয়া শতাধিক মহিলারা বসেন। হঠাৎ একদল পুরুষ মহিলাদের উপর এসে চড়াও হয়। তারা নেত্রীদের গায়ে ন্যাক্কারজনকভাবে হাত দিয়েছে এবং গালিগালাজ করেছে। তার সভানেত্রী মুমুর মোবাইল ও সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন নারীদের চরমভাবে অসম্মান করেছে।
কর্মী সভার সভাপতি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের আহবায়ক বিলকিস বেগম বলেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমকী লীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে সভা বানচাল করে দেয়। এসময় জেলা থেকে আসা নারী নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নারীদের লাঞ্ছিত ও রক্তাক্ত জখম করা হয়।
হামলায় আহত মহিলা দলের যুগ্ন আহবায়ক রাশেদা বেগম বিউটি বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ৯নং শ্রমিকলীগ সভাপতি আমির চৌকিদারের নেতৃত্বে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার, পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাম্বু রফিক, মো: রাকিব, আলী সহ ২০-২৫জন এ হামলায় জড়িত। এরা সকলে স্থানীয় সাংসদ পংকজ নাথের অনুসারী।
তবে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হাওলাদার বলেন, মহিলাদলের দুই গ্রুপে ঝগরা বিবাদ হয়েছে। তারা নিজেরাই এ হামলা করেছে। এ বিষয়ে শ্রমিকরীগের নেতাকর্মীরা জড়িত নন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি শায়লা শারমিন মিমু বলেন, নারীদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে। যেভাবে নারীদের মারধর করা হয়েছে তা বর্ণনা করার মতো না।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথের ঘনিষ্ঠ সহচর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. খোরশেদ আলম ভুলু বলেন, এই হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নয়। মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপির আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে।
এব্যাপারে মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ওনারা যদি কারো বাসায় বসে লোকজন নিয়ে সভা করেন। সেই সভায় প্রতিবেশীদের সাথে বিরোধের জেরে ঝামেলা হয় তাহলে ওসি হিসেবে তার কিছুই করার নেই। তিনি দাবী করেন, মেহেন্দীগঞ্জে মহিলাদল নামে কোন রাজনৈতিক দল সভা করেছে সেটাই তার জানা নেই।
