বড় পরিবর্তন আসছে কমিউনিষ্ট পার্টিতে

Spread the love

নাগরিক ডেস্ক : ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) দ্বাদশ কংগ্রেস (সম্মেলন) আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে। ‘দুঃশাসন হটাও, ব্যবস্থা বদলাও, বিকল্প গড়’―এই স্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। সম্মেলনে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণ ছাড়াও নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। আগামী নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পার্টি সূত্র জানায়,শুক্রবার সকাল ১০টায়  উদ্বোধনী সমাবেশের পর বিকেল ৩টায় গুলিস্তানের কাজী বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ) সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনে বিগত পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের ওপর ‘কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট’, পার্টির রণকৌশলগত দলিল অর্থাৎ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘রাজনৈতিক প্রস্তাব’ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এ ছাড়া রণনীতিগত দলিল ‘ঘোষণা ও কর্মসূচি’ সমসাময়িকীকরণ ও গঠনতন্ত্রের সংশোধনী, অডিট কমিটির রিপোর্ট, কন্ট্রোল কমিশনের রিপোর্ট, ক্রেডেনশিয়াল কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন ও অনুমোদন হবে। কংগ্রেসের শেষ অধিবেশনে আগামী চার বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ও কন্ট্রোল কমিশন নির্বাচন করা হবে এবং জাতীয় পরিষদ ঘোষণা করা হবে।

সিপিবির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কংগ্রেসে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পাটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা ডাকসুর সাবেক ভিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সভাপতি পদ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। কারণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরপর দুইবারের বেশি কারো সভাপতি পদে থাকার সুযোগ নেই। আগামী কমিটিতে তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে থাকবেন―এমনটিই বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন সভাপতি হিসেবে পার্টির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড মণি সিংহের পুত্র ডা. দিবালোক সিংহ ও অধ্যাপক এম এম আকাশ আসতে পারেন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাবেক চারজন ছাত্রনেতা বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন ও আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, কেন্দ্রীয় সহকারী সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে রুহিন হোসেন প্রিন্স পার্টির দায়িত্ব পালনের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চার বছর পর পর সিপিবির কংগ্রেস অনুষ্ঠানের বিধান থাকলেও করোনা মহামারির কারণে এক বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কংগ্রেসকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে পার্টির সকল শাখা, উপজেলা কমিটি ও জেলা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কমিটিসমূহের সম্মেলনে ৪৮৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। কংগ্রেসকে সফল করতে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত প্রস্তুতি কমিটির অধীনে ১৫টি উপপরিষদ কাজ করছে।

তিনি আরো জানান, করোনা মহামারির কারণে বিদেশি প্রতিনিধিগণ শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও এখন পর্যন্ত ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইরান, ফিলিস্তিন, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, কুর্দিস্তান, কানাডা, চিলি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কিউবা, ভেনেজুয়েলা, গ্রিস, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, সোয়াজিল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশের ভাতৃপ্রতিম পার্টিসমূহ কংগ্রেসের উদ্দেশ্যে তাদের বার্তা পাঠিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *