শতবর্ষী চকবাজারের বিকল্প ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের শোরুমমুখী ক্রেতারা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : পোশাক বাজারের জন্য বরিশাল নগরের চকবাজারের ঐতিহ্য শতাধিক বছরের। সময়ের ব্যবধানে চকবাজার সংলগ্ন কাটপট্রি, হেমায়েত উদ্দিন সড়ক, ফজলুল হক এভিনিউ, সদর রোড এবং লঞ্চঘাট সংলগ্ন হাজি মোহাল্ফ§দ মহসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেটে গড়ে উঠেছে বাহারি বিপনী বিতান। এই বাজারগুলোই ছিল ঈদ বাজারে কেন্দ্রবিন্দু।
গত ৫ বছরের মধ্যে এ প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ব্রান্ড প্রতিষ্ঠান ‘আড়ং’ ছাড়া অন্যসব প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের শাখা গত কয়েকবছরে মধ্যে চালু হয়েছে বরিশাল নগরীতে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের স্বচ্ছল পরিবারগুলোর পোশাক কেনাকাটায় এসেছে বৈচিত্র। এবারের ঈদ বাজারে ঐতিহ্যের চকবাজার ও মহসিন মার্কেটের পাশাপাশি ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের শাখাগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ বছরের মধ্যে অন্তত ১৫টি ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের শাখা হয়েছে বরিশাল নগরীতে। বহুতল ভবনের কয়েকটি ফ্লোর নিয়ে স্থাপিত প্রতিটি শাখা দৃষ্টিনন্দন। একছাদের নিচে প্রায় সব আইটেম কেনাকাটা করা যায়।
সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল নগরের উত্তর বগুরা রোডে ফ্যাশন ইন্ড্রাষ্ট্রিজের অনতম প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বরঙ’ এর শাখা উদ্বোধন করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও অপু বিশ্বাসসহ ৬ তারকা শিল্পী। ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের বেশীরভাগ শাখা বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত হওয়ায় ঈদ বাজারেরও বিস্তৃর্ত ছড়িয়েছে নগরের বড় এলাকা জুড়ে।
নগরীর বিভিন্ন সড়কে রয়েছে ক্যাটস আই, ইনফিনিটি, রিচম্যান, এভারভ্যান, টপটেন মার্ট, সেইলর, ইজি, প্লাস পয়েন্টসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের শাখা। শুধু বরিশালের নয়, বিভাগের অপর ৫ জেলা থেকেও মানুষজন ঈদের কেনাকাটার জন্য আসছেন এসব প্রতিষ্ঠানে।
‘বিশ্বরঙ’ শাখা ব্যবস্থাপক ভজন গুহ বলেন, অনলাইন কেনাকাটার কারনে আগে থেকে ক্রেতাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি ছিল। যে কারনে মাত্র ১৮ দিন আগে শাখা উদ্বোধন হলেও ঈদ বাজার ধরতে তাদের বেগ পড়তে হয়নি।
সোমবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, তরুন-তরুনীদের ভীড় বেশী সেখানে। ক্রেতা আজিম হোসেন বলেন, ‘এক দরের এসব প্রতিষ্ঠানে দরদাম করার সুযোগ না থাকায় এক ধরনের স্বস্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া দাম কমবেশী যাই হোক একটি ব্রান্ড পণ্য পেয়েছি এজন্য মনে তৃপ্তি পাই। স্থানীয় দোকান থেকে দরদাম করে কেনার পরও ঠকলাম কিনা তা নিয়ে মনের মধ্যে খুতখুতে থেকেই যায়’।
সদর রোড দর্জি বাড়ির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. মামুন বলেন, বরিশালসহ বিভাগের অপর ৫ জেলার স্বচ্ছল ক্রেতাদের একটা বড় অংশ উৎসব-পার্বনের কেনাকাটা করতে আগে ঢাকায় যেতেন। ব্রান্ড প্রতিষ্ঠনগুলোর শাখা বরিশালে চালুর পর ক্রেতাদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবনতা অনেক কমে গেছে।
বাহারি পোশাক, শাড়ি, পাঞ্জাবি, শিশুপোশাক, জুতার ও প্রশাধনির সমারোহে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে টপটেন মার্ট লিমিটেডের বিশাল শো-রুম। দুই বছর আগে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইমরান শেখ জানালেন, বরিশালে শাখা চালুর পরই বৈশ্বিক ভাইরাস করেনার ছোবলে পড়তে হয় তাদের। যে কারনে গত দুই বছরের ঈদ বাজারে তারা বেচাকেনা করত পারেননি। গত দুদিন ধরে ধরে মোটামুটি বেচাকেনা হয়েছে।
এদিকে ঐতিহ্যবাহি চকবাজার ও আশপাশের সড়কগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের সমাগমে জনঅরন্যে পরিনত হয়। এরই মধ্যে মুল চকবাজার সড়কে যানবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
রেডিমেট পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠানের মালিক ‘এম আলী’র স্বত্বাধিকারী মো. শাহীন বলেন, ২০ রোজার পর থেকেই ক্রেতার চাপ বেড়েছে। শাহীনের মতো অনেক ব্যবসায়ীর দাবী, করোনা আগে ক্রেতার যে চাপ ছিল এখন তা নেই। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাংসারিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষজন পোশাক কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বলে দাবী ব্যবসায়ীদের। ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের শাখার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা ওইদিকে ঝুকেছেন- এ বিষয়েও একমত চকবাজারে বেশীরভাগ ব্যবসায়ী।
চকবাজার-কাঠপট্টি-লাইনরোড-পদ্মাবতি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম বলেন, সমিতির সদস্য সংখ্যা সাড়ে চারশো। করোনার কারণে গত দুই বছরে এই সাড়ে চারশো দোকান মালিকের ৫০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে মোটামুটি বেচকেনা হচ্ছে।
নগরীর হাজি মো. মহসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেট মুলত নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কেনাকাটার জন্য সুপরিচিত। মহসিন মার্কেটের অবকাঠামো হলে সরু গলির দুপাশে আধাপাকা ও কাঠের দোকানঘর। এভাবে ৫শতাধিক দোকানঘর গড়ে উঠেছে ওই মার্কেটে। রোববার দুপুরে এ মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র ভ্যাপসা গরম। ক্রেতাদের ভীড়ে পা ফেলানোর জায়গা নেই মার্কেটে। স্বজন ফ্যাশনের বিক্রেতা সাইদুল বললেন, করোনার আগে যে সংখ্যক ক্রেতা আসতো, এখন তা নেই। হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের বৈশিষ্ঠ হলো বিক্রেতা যে দাম চাইবেন তার তিনভাগের এক দাম বলে কিনতে না পারলে ক্রেতাকে নিশ্চিত ঠকতে হবে।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *