ঈদ উৎসবে হতদরিদ্রদের জন্য জন্য বাসদের অনন্য উদ্যেগ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : বছরে দুটি ঈদ উৎসবে বরিশাল নগরের ফাকিরবাড়ি সড়কে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ঘিরে থাকে অন্যরকম আমেজ। দরিদ্র ও হতদরিদ্র শ্রেণীর শত শত মানুষ ঈদের দিন সকাল থেকে সেখানে আসতে থাকেন। কেউবা আসেন পরিবারসহ। সকলকে আপ্যায়িত করা হয় সেমাই-ফিরনি দিয়ে। এরপরে বিরিয়ানি ভোজ। দুপুরের পরে এ আমেজ ছড়িয়ে পড়ে নগরের বিভিন্ন প্রান্তে।
আপ্যায়িত মানুষগুলো সকলেই যে ওই দলের কর্মী বা মুসলীম ধর্মালম্বী তেমনটা নয়, তবে সকলের একটা পরিচয়ে মিল রয়েছে- তারা এই নগরে বসবাসকারী হতদরিদ্রদেরই একজন। নিজেদের ঘরে ফিরনি ও বিরিয়ানী রান্না করার সামর্থ নেই তাদের।
দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী সমাজের মানুষগুলোকে নিয়ে গত দুইবছর যাবত ঈদের দিন ভিন্নভাবে উৎসবের আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মানবতার ঈদ উৎসব’। সমাজ সচেতন স্বচ্ছলদের সহায়তায় এ আয়োজন করে বাসদ।
এবারও বাসদ বরিশালে এই ঈদ উৎসবের আয়োজন করেছে। ঈদের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দুই হাজার পরিবারকে উন্নত খাবার খাওয়ানোর প্রস্ততি নিয়েছেন তারা।
নগর সংলগ্ন কীর্তণখোলায় জেগে ওঠা রসুলপুরচরে ৪ ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন মোর্শেদা বেগম। অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন তিনি। মোর্শেদা বেগম বলেন, আগের দুই-তিনডা ঈদেও মাইয়া-পোলা লইয়া বাসদ অফিসে যাইয়া বিরয়ানি খাইছি, এইবারও যামু, আমাগো চরের অনেক মানুষ হেদিন বাসদ অফিসে যায় বিরয়ানী খাইতে। মণীসা দিদি (বাসদ নেত্রী ডা. মণীষা চক্রবর্তী) মোগো খুব আদর-যতœ কইর‌্যা খাওয়ায়’। পলাশপুরের আরেক বিধবা নারী নাজমুন নাহার, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নুরজাহান বেগম, পথশিশু সোহেলরাও প্রতিবছর আসেন বাসদের ঈদ উৎসবে অংশ নেয়। বরিশাল নগরীর ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক শ্রমিক সংগঠনগুলো বাসদের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় এ পেশার শ্রমিকরা স্বপরিবারে এ উৎসবে স্বতর্স্ফুতভাবে অংশ নেন।
বাসদের বরিশাল জেলা আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন, ২০২০ সালে করোনার প্রথম ঢেউয়ে দেশে লকডাউন ঘোষনায় হতদরিদ্র মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ে। বরিশাল বাসদ ব্যতিক্রমী সব কর্মসুচীর মাধ্যমে এই অভূক্ষ মানুষগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে। সেই বছর লকডাউনের মধ্যেই ছিল ঈদ উল ফিতর উৎসব।
প্রকৌশলী রুমন বলেন, কর্ম হারানো মানুষগুলোর দিনের তিনবেলা খাবার জোটেনা, ঈদের দিনও অনেকের না খেয়ে থাকবে। তাদের জন্য্যই ২০২০ সালের ঈদ উল ফিতরে বাসদ তারা দলীয় কার্যালয়ে আয়োজন করেন ‘মানবতার ঈদ উৎসব’।
বাসদ নেতা রুমন বলেন, প্রথম উৎসবেই আমরা ৫ হাজার পরিবারকে সেমাই, ফিরনি, বিরিয়ানী খাইয়েছি। শ্রমজীবী শত শত নারী-পুুরুষ ও শিশুর উপস্থিতিতে সত্যিই আয়োজনটি উৎসবে পরিনত হয়। পরিবারের একজন এসে অন্যদের জন্য খাবার নিতে চাইলে তাদের জন্য করা হয় ৪ জনের খাবার উপযোগী ফ্যামিলি সাইজ প্যাকেট। ওই বছর ঈদ উল আজাহায়ও ছিল একই আয়োজন। গতবছর (২০২১) দুটি উৎসবে তিন হাজার করে পরিবারকে নিয়ে আমরা উৎসব করি। এবার দুই হাজার পরিবার নিয়ে হবে ‘মানবতার ঈদ উৎসব’।
উৎসবে অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা ক্রমশ কমিয়ে আনার কারন ব্যাখ্যা করেন জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মণীষা চক্রবর্তী। তিনি বললেন, ‘করোনা সংকট অনেকটাই কেটে গেছে, শ্রমজীবী মানুষগুলো সবাই এখন বিভিন্নভাবে শ্রম বিক্রি করে কমবেশী টাকা আয় করছেন। আমরা মনে করি এতে সমাজে অভূক্ত থাকা মানুষের সংখ্যাও অনেকটা কমে এসেছে’।
ডা. মণীষা জানালেন, ঈদের দিন ফকিরবাড়ির সড়কে বাসদের অফিসে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যারা আসবেন সকলকে আপ্যায়িত করা হবে। ৪ জন খাবার উপযোগী ফ্যামিলী সাইজ প্যাকেট পৌছে দেয়া হবে দরিদ্রদের ঘরে। তিনি জানান, দুপুরে বরিশাল নৌ বন্দরে গিয়ে ভাসসান পথশিশুদের খাবার পরিবেশন করা হবে। সন্ধা পর্যন্ত নগরীর যেসব এলাকায় হতদরিদ্র শ্রেণীর বসবাস বেশী সেখানেই খাবার নিয়ে যাবেন বাসদের কর্মীরা।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা বাসদের এ উদ্যেগের প্রশংসা করে বলেন, বাসদ নেত্রী ডা. মনীষা নাগরিক সহায়তায় প্রতিবছর দরিদ্র মানুষদের জন্য ঈদ উৎসবের আয়োজন করেন। এতে ডা. মণীষার রাজনৈতিক চরিত্রের পাশাপাশি মানবিক চরিত্রটি ফুটে উঠছে। বরিশালের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছেও মানুষ এমনটাই আশা করে’। ##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *