নাগরিক রিপোর্ট : ২০ জন নির্বাচিত ইলিশ জেলের মধ্যে বিতরণের জন্য জড়ো করা হয়েছিল ছোট ছোট বাছুর (বাচ্চা গরু)। অধিকাংশ জেলে সেই বাছুর নেননি। শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে বরিশালের হিজলা উপজেলায়।
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নির্বাচিত সুফল ভোগী জেলেদের মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় গরু বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হিজলা উপজেলা মৎস্য দপ্তর। এ জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত ২০ জন জেলে সকাল ১০ টার আগেই হাজির হন হিজলা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে।
গরু বিতরণের জন্য বরিশাল থেকে হিজলায় যান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। নির্বাচিত একাধিক জেলেরা অভিযোগ করেছেন বিতরণের জন্য যে গরুগুলো উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে জড়ো করা হয়েছিল সেগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল দুধের বাছুর। এতে ক্ষুব্ধ হন জেলেরা। নির্বাচিত অধিকাংশ জেলে ওই বাছুর গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে গরু বিতরণ না করেই বরিশাল ফিরে যান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের জেলে জামাল মাঝি বলেন, ‘গরু দেওয়ার নাম করে দুধের বাচ্চা আনা হয়েছিল। ওই বাচ্চা নিয়ে বাঁচানো যাবে না। তাই আমি নেইনি’।
গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের জেলে হারুন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে গরু দেবে। এসে দেখি বাছুর। এজন্য আমিও না নিয়ে ফিরে গেছি’।
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ইকবাল মাতুব্বর অভিযোগ করেন, ‘দুধ ছাড়েনি এমন বাছুর গরু আনা হয়েছিল বিতরণ করতে। অধিকাংশ জেলে নেয়নি। যারা নেয়নি তাদের এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা মৎস বিভাগ প্রনোদনা দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছে’।
গরু বিতরণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন হিজলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, বিতরণের জন্য ৭-৮টা বাচ্চা গরু আনা হয়েছিল। এজন্য অনেকে নেয়নি। গরু ক্রয়ের ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনা করেনি।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, জেলেদের বিতরণ করতে প্রতিটি গরু ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ হাজার টাকা করে। দরপত্রের মাধ্যমে গরুগুলো ক্রয় করার কথা। ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ নিজেই। অভিযোগ আছে, দরপত্র আহ্বান না করে এবং ক্রয় কমিটির অন্যান্য সদস্যদের না জানিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরিশাল সদরের চরমোনাইরহাট থেকে গরুগুলো কিনেছেন।
জানতে চাইলে, হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ভ্যাট-আইটি এবং পরিবহন খরচ বাদ দিলে প্রতিটি গরু ক্রয়ের জন্য থাকে ২০ হাজার টাকা। ওই টাকায় যেরকম গরু পাওয়া গেছে সেগুলো দরপত্রের মাধ্যমেই কেনা হয়েছে। এম এম পারভেজ দাবি করেন অধিকাংশ জেলেই গরু নিয়েছেন। সব গরু একই বয়স ও সাইজের পাওয়া সম্ভব না। একটু ছোট-বড় ছিল।
গরু ক্রয় কমিটির সদস্য হিজলা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পোদ্দারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ক্রয় কমিটিতে আছি, তবে ক্রয় ও বিতরণের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি’।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, শুনেছি ৭ জন জেলে গরু নেয়নি। বিতরণের জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক গরু কেনা ঠিক হয়নি।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, ‘গরু নয়, বকনা বাছুর বিতরণের কর্মসূচি ছিল। আমি ছিলাম কর্মসূচিতে। গরু বিতরণ করেই ফিরেছি। ১৫ জন জেলে গরু নিয়েছেন। হরিনাথপুর ও ধুলখোলা ইউনিয়নের ৫ জন জেলে গরু নেয়নি’।
২০২২-০৫-২১
