ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ পিরোজপুরের ওসির বিরুদ্ধে

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট : জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধে চাচার পক্ষলম্বন করে ভাতিজাকে হয়ানির অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদজ্জামানের বিরুদ্ধে। তিনি ঠুনকো মামলায় তদন্ত ছাড়াই ভাতিজা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তার আগে হ্যান্ডকাফ পড়ানো রাসেলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়।
পিরোজপুর শহরের সভ্রান্ত পরিবারের ব্যবসায়ী রাসেল অভিযোগ করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ওসি মাসুদুজ্জামান এসব করেছেন। বিনিময়ে তার চাচা আমেরিকা প্রবাসী এনায়েত হোসেন হাওলাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন ওসি।
শনিবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল এসব অভিযোগ করেন। তিনি পিরোজপুর শহরের পশ্চিম শিকারপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সরদার ইলেকট্রনিক্সের মালিক।
রাসেল সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৯ শতাংস জমির মালিকানা নিয়ে চাচা এনায়েত হোসেন সরদারের সঙ্গে বিরোধ চলছে। গত ২ ফেব্রুয়ারী চাচার প্ররোচনায় তার বাড়ির কেয়ারটেকার বাদী হয়ে সাড়ে ১৮ হাজার টাকা চুরি মামলা দায়ের করেন আমার (রাসেল) বিরুদ্ধে। ওই মামলায় আমি আদালত থেকে জামিন লাভ করি। গত ১১ মে বিদ্যুতের মিটার চুরির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন কেয়ারটেকার।
রাসেল অভিযোগ করেন, গোপনে মামলাটি গ্রহন করে ওইদিনই দুপুরে পিরোজপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসে ওসির সালাম জানিয়ে দেখা করার জন্য নিয়ে যান। থানায় ঢোকার পর পরই এসআই মনিরুল হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে ছবি তুলে বিভিন্নজনের কাছে পাঠান। ৩দিন পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। রাসেল জানান, একই বাদীর পর পর দুটি মামলা প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই গ্রহন এবং হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে ছবি ভাইরাল করা ছিল ওসির উদ্দেশ্যেপ্রনেদিত।
রাসেলের অভিভযোগ, ওসি মাসুদ্দুজামানের ভাই মো. মুরাদুজ্জামান টিপন বরগুনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক ও যুবদলের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। রাসেলের চাচাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করতেন। চাচার সঙ্গে দলীয় সখ্যতা এবং অর্থ লেনদেন রয়েছে ওসি মাসুদুজ্জামানের। তার হয়রানিতে তিনি (রাসেল) এখন পিরোজপুর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মাসুদুজ্জান বলেন, রাসেল তার চাচা এনায়েত হোসেন সরদারের জমি জোরকরে ভোগদখল করছেন। তার বিরুদ্ধে একটি অর্থ চুরি মামলার প্রমান পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। মিটার চুরি মামলায় গ্রেফতারের পর থানার মধ্যে হ্যান্ডকাপ পড়ানো ছবি কিভাবে ভাইরাল হলো জানতে চাইলে ওসি দাবী করেন, আসামী গ্রেফতারের পর সাংবাদিকরাও ছবি তুলে নেন। এটাও হয়ত এমনটা হয়েছে। ভাই মুরাদুজ্জামান রাজনীতির সঙ্গে করেন না বলে দাবী করেন ওসি মাসুদুজ্জামান। তবে বরগুনা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নিশ্চিত করেছেন, মুরাদুজ্জামান সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
পিরোজপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তার ওয়ার্ডে সরদার পরিবারটি শিক্ষিত ও যথেষ্ট সচ্ছল পরিবার। এই পরিবারের বেশীরভাগ সদস্য ইউরোপ প্রবাসী। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্ব চলছে। একটি শিক্ষিত-সভ্রান্ত পরিবারের আন্ত:বিরোধ পুলিশ পর্যন্ত গড়ানো দু:খ্যজনক।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *