নাগরিক রিপোর্ট : বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামীলীগ নেতার হামলায় প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলার ভিডিও ধারন করতে হলে জিটিবির জেলা সংবাদদাতা নিকুঞ্জ বালা পলাশের মোবাইল ফোন ভাংচুর করা হয়। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা সাতলা ইউনিয়নের পটিবাড়ি গ্রামে শুক্রবার বিকাল ৩টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার মন্ডল শনিবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী পটিবাড়ি বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও তাদেরকে মারধর করেছে। উজ্জল কুমার মন্ডল জানান, তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে উজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তা গ্রহন করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নিকুঞ্জ বালা পলাশ বলেন, তার বাড়ি পটিবাড়ি গ্রামে। তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বাজারে হামলার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে হামলার ভিডিও মোবাইলে ধারন করতে থাকেন। হামলাকারীরা এটা দেখতে পেয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে ও মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলে।
উজ্জল কুমার মন্ডল জানান, পটিবাড়ি গ্রামে প্রায় আড়াই হাজার জমি নিয়ে একটি মৎস্য প্রকল্প করা হয়েছে। সেখানে অনেক নিরীহ গ্রামবাসীর জমি দখল করা হয়েছে। কিন্ত তাদের প্রকল্পের শেয়ারভুক্ত করা হয়নি। তিনিসহ বঞ্চিত জমির মালিকরা জোটবদ্ধ হয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘেরে ৫০ মন মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে তিনি পটিবাড়ি বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে বসেন। এর কিছুক্ষন পরেই দখলদার মশিউর ও মনিরের নেতৃত্বে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউর রহমান বলেন, মৎস্য প্রকল্পটিতে ৩০০ জনের শেয়ার রয়েছে। প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমারসহ কয়েকজনের সামান্য জমি থাকলেও তারা শেয়ারের বেশী অংশ দাবী করছেন। তারা শুক্রবার জোরপূর্বক মাছের পোনা ছাড়লে অন্যান্য শেয়ারদারদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। হামলা হয়নি।
উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোমেন জানান, পটিবাড়ি গ্রামে একটি মৎস্য প্রকল্প একপক্ষ প্রায় ১৫ বছর ভোগ করছে। তারা বিপুল পরিমান টাকা বিনিয়োগ করেছে। আরেক পক্ষ শুক্রবার সেখানে মাছের পোনা অবমুক্ত করলে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপক্ষের প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করে অভিযোগ দেয়ায় তাকে প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করে পূনরায় অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। তিনি এতে রাজী হচ্ছেন না। ##
