নাগরিক রিপোর্ট : প্রতিবছর বছরে দুটি উৎসবে ঈদের আগে ঘরমুখো এবং ঈদের পরে কর্মস্থলমুখী মানুষের স্রোত থাকে নৌপথে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর প্রথম উৎসব ঈদুল আজাহায় চিত্র ভিন্ন। নৌবন্দর ও বাস টার্মিনাল দুটি জায়গাতেই জন¯্রােত। সেতু উদ্বোধনের পর যাত্রীদের সড়কপথে যাতায়াতে অতি আগ্রহের কারনে লঞ্চে যে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছিল, ঈদুল আজাহাকে কেন্দ্র করে সেই সংকট আপাতত নেই লঞ্চে। ঈদের পরে কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশাপাশি বরিশাল নৌবন্দরও গত ৩ দিন যাবত লোকারন্যে পরিনত হয়েছে।
ঈদ উৎসবের সপ্তাহ শেষে আজ রোববার প্রথম কর্মদিবস। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বেশীরভাগ গতকাল শনিবারের মধ্যে কর্মস্থলমুখী হয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। লঞ্চ ও বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকেই দক্ষিণাঞ্চল থেকে কর্মমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়। তারা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু দেখার আকাংক্ষায় সড়কপথে আসা অনেক যাত্রী ফিরে যাচ্ছে লঞ্চে। কারন এ অঞ্চলের মানুষ লঞ্চের যাত্রাকে আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। যে কারনে লঞ্চে ঈদের পরে যাত্রী চাপ অনেক বেশী।
নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় টার্মিনাল এলাকায় গত কয়েকদিন দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো টার্মিনাল লোকারন্য। টার্মিনালে এক কিলোমিটার এলাকার জুরে যানজট লেগে আছে। এ টার্মিনাল থেকে সকাল ৫টা থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল শুরু হয়। তার আগেই যাত্রীরা এসে ভীড় করেন একটি টিকেটের জন্য। বিলাসবহুল বাস অগ্রীম টিকেট বিক্রি করায় ঈদের আগের তাদের বেশীরভাগ টিকেট বিক্রি হয়ে যায়। এছাড়াও বিআরটিসি ও বিএমএফ পরিবহন নামক একটি বাস নগদ টিকেট বিক্রি করে ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। বিআরটিসি ডিপোতে গিয়ে দেখে গেছে, টিকের জন্য যাত্রীদের লানি অর্ধকিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। সরাসরি বাসে টিকেট সংকট থাকায় লোকাল বাসে জনপ্রতি ৪০০ টাকায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
বিআরটিসি কর্মচারী মো. শাহ আলম বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন লেগে আছে। সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক আনিসুচর রহমান বলেন, আগামী ১৮ জুলাই র্পযন্ত তাদের সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ফরিদ হোসন বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর বাসের যাত্রী তিনগুন বেড়েছে। সে অনুপাতে বাসের সংখ্যা বাড়েনি। যে কারনে সবগুলো পরিবহন কোম্পানী বাস সংকটে ভূগছে। একটি বাস ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে পূনরায় বরিশালে ফিরে যাত্রী পরিবহন করতে হয়। অগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করা যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এদিকে বিকেল হলেই বদলে যায় বরিশাল নৌবন্দরের চিত্র। হাজার হাজার মানুষের ¯্রােত ছুটতে থাকে লঞ্চঘাটে দিকে। গতকাল শনিবার বরিশাল থেকে বৃহৎ ১৬টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে। তার আগের দিন শনিবার গেছে ১৫টি লঞ্চ। রাত ৮টার থেকে পর্যায়ক্রমে এ লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। প্রতিটি লঞ্চে থাকে তিন সহ¯্রাধিক যাত্রী।
সুন্দরবন-১০ লঞ্চরে মাস্টার মজিবর রহমান শনিবার বিকালে বলেন, শুক্রবার প্রতিটি লঞ্চে আড়াই থেকে ৩ হাজার যাত্রী ঢাকায় গেছেন। শনিবারও একই অবস্থা।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, শুক্রবার ১৫টি ও শনিবার ১৬টি লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকায় গেছে। তিনি দাবী করেন, ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী যাত্রী তোলা হয়নি লঞ্চে। ##
