নাগরিক রিপোর্ট : বরিশাল নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে রূপাতলী বাস টার্মিনাল। বৃষ্টি হলেই টার্মিনালের অভ্যন্তরে এবং আশপাশে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। নারী ও শিশু যাত্রীদের পোহাতে হয় অবর্ণনীয় ভোগান্তি। জলবদ্ধতা নিয়ে বাস চালক, শ্রমিক এবং মালিকদেরও ভোগান্তির শেষ নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে রূপাতলী টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরে জমে আছে পানি। রোববার সকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে বরিশালে। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ রোববার সকাল থেকে সোমবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। স্বাভাবিক এ বৃষ্টিপাতেই হাটু পানি জমেছে রূপাতলী টার্মিনালের ভেতরে। অথচ এই টার্মিনাল থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ রুটে প্রায় ৪০০ বাস প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রায় ৫ বছর ধরে রূপাতলী বাস টার্মিনালের অবস্থা করুন হলেও টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে টার্মিনাল সংস্কার করতে বার বার করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েও কোন সুফল মিলছেনা।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন বলেন, যাত্রী সেবা তো দূরের কথা, গত প্রায় ৫ বছর ধরে বৃষ্টি হলে রূপাতলী টার্মিনালে বাস রাখা মুশকিল হয়ে পড়েছে। বর্ষা হলেই হাটু পানি জমে টার্মিনালের ভেতর। তখন বাসগুলো মহাসড়কের পাশে রাখতে বাধ্য হন চালকরা। টার্মিনালের ভেতর পানি জমলে কাদা পানি মাড়িয়ে যাত্রীদের কাউন্টারে যেতে এবং বাসে উঠতে হয়।
কাওসার হোসেন শিপন আরো বলেন, রূপাতলী বাস টার্মিনালটি বিসিসি কর্তৃপক্ষ বর্তমান স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করছে। এ জন্য বার বার সংস্কারের আবেদন জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে যাত্রীরা দুর্ভোগ স্বীকার করেই বিভিন্ন রুটে যাতায়ত করছেন।
রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার ২১ রুটে যাত্রীরা যাতায়ত করেন। ঝড়-বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঝালকাঠীর যাত্রী মোঃ বাবুল মোল্লা বলেন, বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারনে কাউন্টারে যাওয়া যায়না। বাসে উঠতে হয় পা ভিজিয়ে। এভাবে যাতায়ত করা কষ্টকর। ভান্ডারিয়া রুটের যাত্রী মনিরুজ্জামান বলেন, বৃষ্টি হলে হাটু পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। বরিশাল বিভাগের আর কোন বাস টার্মিনালে এমন যাত্রী দুর্ভোগ হয় না। মনিরুজ্জামান আরো অভিযোগ করেন, রূপাতলীর বাস টার্মিনাল ভবনের সবকটি টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। যাত্রীদের বসার স্থান হকার ও শ্রমিকদের দখলে থাকে।
বরিশাল-বরগুনা রুটের বাস চালক মোঃ আফজাল খন্দকার বলেন, টার্মিনালের ভেতর বড় বড় গর্তের কারনে গাড়ি ঘোরাতে ভোগান্তি হয়। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়। রূপাতলী টার্মিনালের হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ মাহবুব বলেন, টার্মিনালের ভেতরে বিদ্যুৎ সর্ববরাহের খুঁটিগুলোতে বাতি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। রাতে গোটা টার্মিনাল এলাকা অন্ধকারে থাকে। এসময় বখাটেরা টার্মিনালে ঢুকে মাদকের আড্ডা জমায়। প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। যাত্রীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
একাধিক বাস মালিক অভিযোগ করেন, টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলা বছরের পর বছর ধরে দখল করে আছে বরিশাল জেলা বাস-মিনিবাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। এ কারনে বিভিন্ন রুটের কাউন্টারগুলো সড়কের পাশে অথবা টার্মিনালের ভেতরে স্থাপন করতে বাধ্য হচ্ছে মালিক সমিতি। বর্ষায় পানি জমলে টার্মিনালের ভেতরে থাকা কাউন্টারে যেতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মমিন উদ্দীন কালু বলেন, মালিক সমিতি প্রতি বছর সিটি করপোরেশনকে ২০ লাখ টাকা টোল দেয়। কিন্তু টার্মিনালের কোন উন্নয়ন হয় না। রূপাতলী টার্মিনালের যাত্রী টয়লেটের ইজারাদার মোঃ আসলাম অভিযোগ করেন, একটু ভারী বৃষ্টি হলেই টয়লেটগুলো পানিতে ডুবে যায়। এতে টয়লেটের ময়লা উপচে টার্মিনালের ভেতরে চলে আসে।
রূপাতলী বাস টার্মিনালের দুরাবস্থার বিষয়ে বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ বলেন, রূপাতলী বাস টার্মিনালটি স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তাই স্থায়ী কোন সংস্কারের কাজ হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি রূপাতলী টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার দুরাবস্থা দেখেছি। চলতি সপ্তাহেই সংস্কারের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করা হবে। ##
