নাগরিক রিপোর্ট ॥ এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার কনষ্টবল জাহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইনস এ ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনার শিকার নারী রাশিদা বেগম ফের সোমবার রেঞ্জ ডিআইজর সাথে দেখা করে এ ঘটনায় ওসি ও কনস্টেবলের বিচার চেয়েছেন। এদিকে নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নাইমুল হক বলেছেন, মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হতে পারে। পুলিশের দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে, এর প্রেক্ষিতে উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পালও ফেঁসে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে নালিশ দেয়ার অপরাধে গত বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের সাবেক এএসআই এর স্ত্রী রাশিদা বেগম (৬২) নামের এক নারীকে মারধর করে সিগারেটের আগুনে গাল পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে উজিরপুর থানার কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এমনকি থানার ওসির বিরুদ্ধেও হয়রানী ও মারধোরের অভিযোগ তুলেন ওই নারী।
জানা গেছে, রাশিদা উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আবুল কালামের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত আগস্টে তার স্কুল পড়–য়া মেয়ে (১১) অপহরনের শিকার হয়। তিনি উজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ওসি শিশির মামলা রুজু না করে ১৯ আগষ্ট মেয়েকে উদ্ধার করে দেন এবং মামলা নিতে টালবাহান করেন। কিন্তু পুনরায় তার কন্যা অপহরন হলে রাশিদা থানায় গিয়ে অভিযোগ দেন। কিন্তু ওসি অভিযোগ ছিড়ে ফেলেন।
এ ঘটনায় গত সপ্তাহে রাশিদা বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে রেঞ্জ ডিআইজি উজিরপুর থানার ওসি শিশিরকে রাশিদা বেগমকে আইনি সহায়তা দেয়ার দেয়ার নির্দেশ দেন। রাশিদা বেগম বলেন, ডিআইজির কাছে নালিশ দেয়ায় গত বুধবার(১১ সেপ্টেম্বর) ওসি তাকে থানায় ডেকে পাঠান। সন্ধ্যায় তিনি থানায় দেখা করতে গেলে থানার কনষ্টবল জাহিদুল ইসলাম তাকে চর-থাপ্পর মারেন এবং গালে সিগারেটের আগুন চেপে ধরে পুড়িয়ে দেয়।
ওই ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে গত বৃহস্পতিবার ৩ সদস্য বিশিস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ সুপার। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নাইমুল হক বলেন, তাদের ৫দিনের সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা প্রতিবেদন দিতে পারেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল উজিরপুরে সোমবারও গিয়ে তদন্ত করেছেন। এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২জনের সাক্ষি নেয়া হয়েছে। তদন্তের শুরুতেই যখন শুনেছেন যে অভিযোগকারী নারী রাশিদা বেগমের সাথে উজিরপুর থানার কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামের তর্কাতর্কি হয়েছে। যেকারনে গত শনিবার তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ওসি শিশির পাল প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল হক বলেন, তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার শিকার নারী রাশিদা বেগম ফের সোমবার বেলা ১টায় রেঞ্জ ডিআইজ এর কাছে গিয়ে উজিরপুরের ওসি শিশির পাল ও কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। রাশিদা বেগম তার অভিযোগে রেঞ্জ ডিআইজি মো: শফিকুল ইসলামকে বলেন, উজিরপুরের ওসি শিশির পাল তাকে হয়রানী করছে। এর আগে মেয়েকে অপহরনের অভিযোগ গ্রহন না করে হয়রানী ও মারধর করেছে। চলমান তদন্তে ওসি সাক্ষিদের সাক্ষ দিতে দিচ্ছে না। এজন্য তিনি ওসি শিশির ও কনস্টেবল জাহিদ এর বিচার চান। জবাবে ডিআইজ বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। মা তুমি বিচার পাবে।’ ওসি সাক্ষিদের সাক্ষ দিতে বাধা দেয়ার কথা রাশিদা জানালে ডিআইজ বলেন, ‘পাবলিক কেন সাক্ষি দিতে চায় না। তাদের তো কথা বলতে হবে।’ ডিআইজ এসময় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতনের শিকার নারী রাশিদা।
এদিকে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সুত্র জানিয়েছে, তদন্তে ওসি শিশিরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। তাছাড়া মঙ্গলবার ঘটনার শিকার নারী রাশিদা ফের ডিআইজর সাথে দেখা করে সাক্ষি নিতে ওসির বিরুদ্ধের বাধা দেয়ার অভিযোগ তোলায় ফেসেঁ যাচ্ছেন ওসি শিশির পাল। অভিযোগ প্রসঙ্গে উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, তিনি এসব কিছুই জানেন না।
এব্যপারে উজিরপুর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার সাঈদ বলেন, ইতোমধ্যে কনস্টেবল জাহিদকে লাইনে ক্লোজড করে নেয়া হয়েছে। রোববারও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তাদের তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ২/১দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০১৯-০৯-১৭
