নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে রোববার মানববন্ধন ও ক্লাস বর্জন করেছেন ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের ওপর হামলকারী মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের বিচার দাবী করা হয়েছে মানববন্ধন থেকে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, শনিবার দুপুরে বাবুগঞ্জের পশ্চিম ভূতেরদিয়া আলিম মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভা শুরু হয় কমিটির সভাপতি ও কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারীর সভাপতিত্বে। সভার এক পর্যায়ে মাদারাসায় নৈশ প্রহরী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এসময় পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ তার এক ঘনিষ্টজনকে নৈশ প্রহরী নিয়োগের জন্য সভায় দাবী জানালে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মো. নাজমুল হক সহ কয়েকজন শিক্ষক বিরোধীতা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হারুন অর রশিদ সভার মধ্যেই শিক্ষক নাজমুল হককে মারধর করেন। নাজমুল হক অভিযোগ করেন, হারুন অর রশিদ তাকে সভা চলাকালে এলোপাতারি কিলঘুষি মারেন এবং আরবী বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে ধাক্কা দিয়ে সভা কক্ষ থেকে বের করে দেন।
এদিকে নাজমুল হককে মারধরের প্রতিবাদে রোববার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন এবং ক্লাস বর্জন করেছেন। মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচীর সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ও অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাদের। তারাও শিক্ষকের ওপর হামলাকারীর বিচার দাবী করেছেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, কোন শিক্ষককে তিনি মারধর করেননি। বরং মাদারসা পরিচালনা কমিটির সভায় এতিমদের জন্য আসা বরাদ্দ কিভাবে খরচ হয়েছে তা জানতে চাওয়ায় অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এ কারনেই এখন মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরে আলম বেপারী জানিয়েছেন, কোন শিক্ষককে মারধর করা হয়নি, তবে হারুন অর রশিদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকের কথা কাটাকাটি হয়েছে।
২০১৯-১০-০৬
