বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহাকে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ অমিত সাহাকে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার আইন বিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। অমিত সাহা বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ছিল অমিত সাহা। তবে মামলার এজাহারে অমিত সাহার নাম না থাকায় এই নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনার জন্ম নেয়।
বুধবার আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্ অভিযোগ করেন, ‘অমিত সাহা নামের একজনের কক্ষে আমার ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার নামটা এজাহারে আসে নাই। গতকাল (মঙ্গলবার) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তাকে বলেছি অমিত সাহাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উনি (তদন্ত কর্মকর্তা) বলেছেন, তদন্ত করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
বুয়েটের হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী। যার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
বুয়েটের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অমিত সাহার নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল ২০১১ নম্বর কক্ষটি। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান। ওই কক্ষ থেকে পুলিশ রক্তমাখা স্টিক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এই রুমে শুধু আবরারকেই নয়, আরো অনেককেই এনে নির্যাতন করা হতো। যার কক্ষে এ ঘটনা ঘটল তাকে আসামি না করা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের পাশে থাকা এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক অধিকারকে জানান, ২০১১ নম্বর কক্ষে চার শিক্ষার্থী থাকেন এর মধ্যে তিনজন পলিটিক্যাল আর একজন নন পলিটিক্যাল। এরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ। আরেকজন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী, যার রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিনের কয়েকদিন আগে থেকেই ছুটিতে রয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। পরীক্ষার জন্য এক মাসের ছুটি উপলক্ষেই ওই ছাত্র বাড়িতে রয়েছেন। পূজার ছুটিতে বাড়িতে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মূলত পরীক্ষার পূর্বে দেওয়া ছুটিটাই মুখ্য।
অমিত সাহার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্র বলেন, ঘটনার দিন অমিত সাহা কক্ষে ছিল কি না এই বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অমিত সাহা ছাত্রলীগ করে। সে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে ছুটিতে বাড়ি গেছে সে অমিত সাহা নন।
এ দিকে অমিত সাহাকে নিয়ে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। তাকে উগ্রহিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের খেতাবও দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে তার উগ্রধর্মীয় মতাদর্শই আবরার ফাহাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সদস্য অমিত সাহা। ইসকনের ব্যানারে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ আছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
২০১৯-১০-১০
