নাগরিক রিপোর্ট ॥ মা ইলিশ রক্ষায় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। প্রজনন নিরাপদ করার জন্য এবারও এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো মৎস্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জেলেদের ডাঙ্গায় ধরে রাখতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ২০ কেজি করে চাল দেয়ার। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯ জেলে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ২৭ হাজার জেলে চাল বরাদ্দের সুবিধা পাবেন। এছাড়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য অধিদপ্তর, কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নদী ও সাগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানার উৎসাহ দিতে জেলে অধ্যুষিত ২২ জেলায় ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯ জন কার্ডধারী জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। এজন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোট ৮ লাখ ১৬১ টন ভিজিএফ এর চাল। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো.আজিজুর রহমান জানান, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩ জন জেলে চাল বরাদ্দের সুবিধা পাবেন। নিষেধাজ্ঞা শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই জেলেদের মধ্যে চাল বিতরনের তাগিদ দেয়া হয়েছে এ কর্মকর্তা জানান।
এর মধ্যে ভোলায় ৮৮ হাজার ১ জেলেকে ১ হাজার ৭৬২ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীর ৪৫ হাজার ৬৪২ জেলেকে ৯১২ মে: টন, বরিশালে ৪৩ হাজার ৬৪ জেলেকে ৮৭২মে:টন, পিরোজপুরের ১৪ হাজার ৮৭৫ জেলেকে ২৯৭মে: টন, বরগুনায় ৩৪ হাজার ২১ জেলেকে ৬৮৪ মে: টন এবং ঝালকাঠীতে ১ হাজার ৪৬০ জেলেকে ২৯ টন চাল দেয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে বরিশাল ক্ষুদ্রমৎস্যজীবী জেলে সমিতি নেতা বাবুল মীর বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন চাল বরাদ্ধ হলেও তা ওই সময় জেলেরা পান না। সরকারকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে রয়েছেন যারা প্রকৃত জেলে নয় কিন্তু চাল পাবেন। আবার প্রকৃত জেলেও এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। মৎস্য অধিদপ্তরকে এ বিষয়টি সরাক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রকৃত জেলে নয় জেলে নামধারীরাই মা ইলিশ নিধন করে।
এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো.আজিজুর রহমান জানান, এবার নিষেধাজ্ঞাকালীনই চাল বরাদ্ধ দেয়া হবে। তিনি স্বীকার করেন যে জেলে না হয়েও অনেকে মা ইলিশ নিধনের সাথে জড়িত। এদের ধরতে এবার বরিশালের হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা, ভোলার লালমোহন, মনপুরা, চরফ্যাশন সংলগ্ন মেঘনা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া সংলগ্ন পায়রা নদী এবং বাউফল সংলগ্ন তেতুলিয়া নদী, বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বিশখালী নদী, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে মা ইলিশ লক্ষায় কড়া নজরদারী থাকছে।
ইলিশ গবেষনা ইনষ্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, ৭০-৮০ ভাগ ইলিশ ডিম ছাড়ে আশি^নের ভরা পূর্ণিমায়। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘœ করতে পূর্ণিমার আগে ১৭দিন এবং পরে ৪দিন অর্থৎ মোট ২২ ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, মেঘনাসহ বড় নদী তীরে মা ইলিশ নিধন রোধে কাজ করছে বিশেষ টিম। জেলেদেরও সহায়তার পাশাপাশি সচেতনতায় জোর দেয়া হয়েছে।
এব্যপারে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ পরিচালক ড. অলিয়ুর রহমান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে তারা জেলেদের সাথে সভা করেছেন। ২০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্চে। ২২ দিনের কার্যক্রম তদারকি করতে গঠন করা হয়েছে একাধিক মনিটরিং কমিটি। নদী তীরবর্তী এলাকায় এবার তাদের বেশি নজর থাকবে। (সুত্র: আলোকিত বাংলাদেশ)।
২০১৯-১০-১১
