নাগরিক রিপোর্ট ॥ শুকনো মৌসুমের শুরুতেই বরিশাল-ঢাকা নৌপথে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এ রুটের ‘মিয়ারচর’ চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প রুট হিসেবে উলানিয়া-কালিগঞ্জ চ্যানেলও এখন বন্ধের পথে। ফলে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, প্রবল ¯্রােতের কারনে নভেম্বরের শেষের আগে এ রুট স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। বর্তমান অবস্থায় লঞ্চ মালিক ও চালকরা ঢাকা-বরিশাল নৌপথ বন্ধ হওয়ার আশংকা করেছেন।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুরের যুগ্ন পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, মিয়ার চর চ্যানেলে ২ থেকে ৩ মাস আগেই নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন সেখান থেকে বড় লঞ্চ যেতে পারে না। ছোট নৌযান হয়তো নিজ দায়িত্বে চলছে। অপরদিকে বিকল্প রুটের উলানিয়া কালিগঞ্জ চ্যানেলও সম্প্রতি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ¯্রােত সৃস্টি হচ্ছে। যেকারনে পলি জমে ওই চ্যানেলটিও নৌযান চলাচলে অনুপোযোগী হয়ে উঠেছে। এ রুট থেকেও এখন লঞ্চ চলাচল ঝুকিপূর্ন। তিনি বলেন, আপাতত তারা কালিগঞ্জ থেকে নৌযান চলাচলের কথা বলছেন। কিন্তু এ চ্যানেল থেকে আসতে জাহাজের ১ ঘন্টা বিলম্ব হচ্ছে। উদ্ভুত পরিস্তিতিতে মিয়ার চর চ্যানেল খনন এর জন্য ৪/৫টি ড্রেজার সেখানে রাখা হয়েছে। কিন্তু অত্যাধিক ¯্রােত থাকায় আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু হতে পারেন। তিনি আশা করেন নভেম্বরের শেষ নাগাদ মিয়ার চর চ্যানেল স্বাভাবিক হবে।
বর্তমান অবস্থায় কিভাবে লঞ্চ চলাচল করছে এ প্রসঙ্গে সুন্দরবন-১০ লঞ্চের প্রবীন মাষ্টার মো: মজিবর রহমান বলেন, মিয়ারচর চ্যানেল অনুপযোগী ঘোষণা করে নৌযানগুলোকে বিকল্প পথ হিসেবে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া-কালিগঞ্জ চ্যানেল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এ চ্যানেল ব্যবহার করতে নৌযানগুলোকে প্রায় ৪ নটিকেল মাইল পথ বেশি পাড়ি দিতে হচ্ছে। প্রায় ১ ঘন্টা বেশি সময় ব্যায় করার জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে ৬ থেকে ৭শ’ লিটার। তার উপর বর্তমানে উলানীয়া চ্যানেলেও নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানেও পানি নেই। লঞ্চ প্রায়সই চরে আটকে যাচ্ছে। এমনটা চলতে থাকলে এই রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পারাবত-১১ লঞ্চের মাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, কালিগঞ্জ চ্যানেলের উলানিয়া লঞ্চঘাট এলাকায়ও প্রায় দেড় হাজার ফুট লম্বা ডুবচর আছে। এ চ্যানেলটি দিয়েও নৌযান চলাচল বধাগস্থ হচ্ছে। কারণ, জোয়ার-ভাটায় কালিগঞ্জ চ্যানেলের গভীরতাও ৯ থেকে ১২ ফুটের মধ্যে ওঠানামা করছে। এ কারণে এ নৌপথ দিয়েও পুরো শীত মৌসুমে নৌযান চলাচল মারাত্মক বাধাগ্রস্থ হতে পারে। আগামীতে এ রুট থাকবে কিনা তা নিয়েও শংকা প্রকাশ করেছেন তিনি।
একাধিক লঞ্চ চালক জানান, মিয়ারচর হিজলা উপজেলার আলিগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের দিকে বয়ে যাওয়া মেঘানার ১৫ কিলোমিটারের বেশি লম্বা একটি চ্যানেল। এই চ্যানেল দিয়েই নৌযান চলাচল সহজ। মিয়ার চর চ্যানেলে বর্তমানে পানির গভীরতা রয়েছে সর্বোচ্চ ১০ ফুট। আর ভাটার সময় ৫ ফুট। অথচ ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চল রুটের সব যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পন্যবাহী নৌযান চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১২-১৫ ফুট পানির দরকার হয়।
বিআইডব্লিউটিএ এর বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিয়ারচর চ্যানেলের অস্তিত্ব নিয়ে তারা শংকিত। অপরদিকে ডুবচরের কারণে হুমকিতে থাকা কালিগঞ্জ চ্যানেলটিও খনন করা দরকার। তা না হলে যে কোন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকায় যাত্রী ও পন্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এব্যাপারে লঞ্চ মালিক সমিতির সদ্য নির্বাচিত সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ঢাকা-বরিশাল নৌ পথে লঞ্চ চালানো ভয়াবহ পর্যায়ে পৌছেছে। মিয়ার চর বন্ধ। উলানিয়া কালিগঞ্জ থেকে যেতে হলে ঘুরে যেতে ১ থেকে দেড় ঘন্টা বেশি সময় লাগে। তিনি বলেন, ‘মনে হয় এ রুট বন্ধ হয়ে যাবে।’ বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যানকে বিষয়টি একাদিকবার বলেছি। নতুন কমিটি আবার চেয়ারম্যানের কাছে যাবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে ড্রেজিং করতে। কিন্তু সুফল পাচ্ছি না। ১৫ দিনের মধ্যে একই অবস্থা। ড্রিজিং এ তদারকি সঠিক ভাবে হচ্ছে না। এর ফলে যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ, তেমনি মালিকরাও বাড়তি খরচে কস্টে আছেন।
২০১৯-১০-৩০
