কেন্দ্রের কড়া চিঠি: বরিশাল আ’লীগে শুদ্ধি অভিযান

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ আসন্ন কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলছে। রোববার এ সংক্রান্ত কেন্দ্রের একটি কড়া চিঠিও এসে পৌছেছে। দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাক্ষরিত ওই চিঠিতে অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদীদের কাউন্সিলে না রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা ও মহানগর আ’লীগের দুই সাধারন সম্পাদক এ তথ্যর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একজন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সম্পাদকীয় পদের ২ নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশে অভিযোগের তালিকায় থাকা একাধিক নেতা কাউন্সিলেই ঝরে পড়তে যাচ্ছে।
বরিশাল মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আগামী ৭ ও ৮ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে কাউন্সিলকে ঘিরে নগরীর ৯টি ওয়ার্ড আ’লীগের সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও বর্ধিত সভা, ইউনিয়ন সভা চলছে। এদিকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা মুল দলে এ সুযোগে ঢুকে পড়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে সুবিধাবাদী, অনুপ্রবেশকারীরা। তারা নানাভাবে প্রচার চালিয়ে নিজেকে আ’লীগ ঘরানার জাহিরের পাশাপাশি নেতাদের কাছেও ধর্না দিচ্ছে। তবে এ সুযোগের পথ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। দলে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার বরিশাল জেলা ও মহানগর আ’লীগকে পৃথক চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আ’লীগ।
জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এ কে এম জাহাঙ্গির বলেন, তিনি রোববার কেন্দ্রের চিঠি পেয়েছেন। দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে- আ’লীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা মহানগরের মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটি আগামী ১০ ডিসেম্বর এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। চিঠিতে নতুন কমিটিতে অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী যাতে না থাকতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নগর আ’লীগ এক্ষেত্রে কি উদ্যোগ নিয়েছে এ প্রসঙ্গে আ’লীগ সম্পাদক জাহাঙ্গির বলেন, ইতোমধ্যে ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ওয়ার্ড এর কাউন্সিলে বলা হয়েছে সুবিধাবাদী, অনুপ্রবেশকারী দলে নেতৃত্বে দিতে পারবে না। যারা তৃনমুলে ছাত্র রাজনীতিতে ছিল তাদের আনা হবে নতুন নেতৃত্বে। এরই মধ্যে ৬টির কমিটির বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়েছে। যে কেউ দলে ঢুকতে আবেদন করতেই পারে। তার কাছেও অনেকেই এসেছেন দলীয় ফরম সংগ্রহ করবেন কিনা জানতে। তারা আসতেই পারেন, কিন্তু যাচাই বাছাই করে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেয়া হচ্ছে। এটি শুদ্ধি অভিযানের অংশ। উদাহরন হিসেবে আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গির বলেন, ‘যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদককেও রেহাই দেইনি। তাকে নগর আ’লীগ থেকে সম্প্রতি শৃংখলা ভঙ্গের কারনে বর্ধিত সভায় বহিস্কার করা হয়েছে। এভাবেই দলে শুদ্ধি অভিযান চলবে।’
মহানগর আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, তারা প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়েছেন যে যারা আ’লীগে ছিল না তাদের নেতৃত্বে আনা হবে না। নগর আ’লীগ কাউন্সিলর এর মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীরা প্রার্থী হতে চাচ্ছে। নানাভাবে তারা ঢুকতে চায় দলে। তবে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে কাউন্সিলে অনেকেই বাদ পড়তে যাচ্ছে।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগেও কাউন্সিলকে ঘিরে শুদ্ধি অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে রোববার বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি গোলাম ফারুককে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোলাম ফারুক অনৈতিক কাজে লিপ্ত থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এক তরুনীকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিলো দল। জানতে চাইলে জেলা আ’লীগের দপ্তর বিষয়ক সদস্য এ্যাড: কাইউম খান কায়সার বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সমাজবিরোধী, অনৈতিক কাজ করেছেন। যেকারনে দল তাকে বহিস্কার করেছে। এটি শুদ্ধি অভিযানেরই একটি অংশ।
জেলা আ’লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, আগামী ৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে অনেক নেতাই বাদ পড়তে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি উপজেলা কমটিতেও নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের কারনে পরিবর্তন আসছে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস বলেছেন, কাউন্সিল উপলক্ষে কেন্দ্রের চিঠি পেয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীরা নেতৃত্বে যাতে আসতে না পাড়ে এজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে বহিস্কার করা হয়েছে। নেত্রীর জিরো টলারেন্স এর অংশ হিসেবেই এই বহিস্কার বলে জানান আ’লীগ নেতা ইউনুস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *