প্রভাবশালী এসপি হারুন যে কারনে প্রত্যাহার হলেন

Spread the love

বহুল সমালোচিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ তার বর্তমান কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ থেকে তড়িৎগতির বদলি হয়েছেন।

আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বদলি আদেশে তাকে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের পুলিশ সুপার (টিআর) নিয়োগ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব ধনজয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত আদেশে এই বদলি হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্প গ্রুপ পারটেক্স’র কর্ণধার আবুল হাসেমের পুত্রবধূ ও নাতিকে ঢাকার বাড়ি থেকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এসপি হারুনের নেতৃত্বে। এ ঘটনায় তাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আপাতত হেড কোয়ার্টারে সরিয়ে আনা হলেও এ বিষয়টিসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উত্তোলন হওয়া দুর্নীতি-অপকর্মের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে তাকে।

সূত্র জানায়, গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার আবুল হাসেমের ছেলে আম্বর গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলের গুলশানের বাসভবন থেকে তার স্ত্রী ফারহা রাসেল এবং পুত্র আহনাফ রাসেলকে তুলে এনেছেন এসপি হারুন, এ অভিযোগ তোলেন আম্বর চেয়ারম্যান রাসেল।

তিনি দাবি করেন, আম্বর ডেনিম থেকে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন হারুন অর রশীদ। এই চাঁদার টাকা না পেয়ে বুধবার তার ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করে নিয়ে যায়। পরে ১ নভেম্বর গভীর রাতে তার গুলশানের বাড়িতে ৫০-৬০ জন ডিবি, থানা ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের নিয়ে হানা দেন এসপি হারুন।

রাসেলের বলেন, তার বাড়িতে গিয়ে প্রতিটি কক্ষ তছনছ করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ফারাহ রাসেল এবং আনাফ রাসেলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ। এছাড়া তার গাড়ি চালক সুমনকে মাদক ও গুলিসহ আটক করা হয়েছে বলে নাটক সাজায়। এ ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আম্বার চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলকেও আসামি করা হয়।

এদিকে রাসেলের বাড়িতে মধ্যরাতে অভিযান চালানো এবং সেখান থেকে তার স্ত্রী-পুত্রকে আটক করে নিয়ে আসার একটি সিসি টিভি ফুটেজ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

এর আগে ২ নভেম্বর পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার আবুল হাসেম ও তার স্ত্রীকে এসপি অফিসে বসিয়ে রাখা হয়েছিলো। পরে বিকেলের দিকে শওকত আজিজ রাসেলের ছেলে ও স্ত্রীকে তাদের হেফাজতে ছেড়ে দিয়ে গাড়ি চালক সুমনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শওকত আজিজ রাসেল ও চালক সুমনকে আসামি করে মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *