নাগরিক রিপোর্ট ॥ বরিশাল নগরীতে জুয়া খেলার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে রূহুল আমিন (২৬) নামক এক যুবককে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে নগরীর আমানতগঞ্জ কশাইবাড়ি পুল এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক সুমন ওরফে লাইলী সুমন ঘটনার পর পালিয়ে গেছে। সে একাই প্রকাশ্যে স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রূহুল আমিনকে হত্যা করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া জানান, রূহুল আমিন ও ঘাতক সুমন একই এলাকার বাসিন্দা ও এক সঙ্গে চলাফেরা করতো। তারা মোবাইলে লুডু খেলার মাধ্যমে জুয়া খেলতো। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, রুহুল আমিনের কাছে জুয়ার টাকা বাবদ ২৬ হাজার টাকা পেত সুমন। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘাতক সুমনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর রিফাত (১৩) জানান, বিকাল ৪টার দিকে রূহুল আমিন আরও দুই জন বন্ধু নিয়ে কশাইবাড়ি পুল সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যাক্ত ভবনের পাশে বসা ছিল। এসময় সাইকেল চালিয়ে সেখানে আসে সুমন। পাওনা টাকা নিয়ে রূহুল আমিন ও সুমনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমন তার পেছনে থাকা ধারালো অস্ত্র (দা’) বের করে রূহুল আমিনকে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। এসময় তার সঙ্গে দুই বন্ধু পালিয়ে যায়। রূহুল আমিন দৌড়ে পাশের ঈদগাহ মাঠে গিয়ে পড়ে গেলে সেখানে তাকে কোপানো হয়। এরপর সুমন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা রুহুল আমিনকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়া জানান, রূহুল আমিন ওই এলাকার বাসিন্দা নন। তিনি ওই এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করে শ্বশুরের বাসায় থাকতেন। ঘাতক সুমনের সঙ্গে রূহুল আমিনসহ অন্যরা একত্রে চলাফেরা করতো। তারা উভয়েরে পেশা ছিল পিকআপ চালক।
২০১৯-১১-০৪
