সড়ক দূর্ঘটনার অভিশাপ কাটাতে দরকার ট্রাইবুনাল

Spread the love

সৈয়দ জুয়েল ॥ নুতন আইনেও নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা সড়কে মৃত্যুর মিছিল। বাস, রেল, নৌপথে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা। মঙ্গলবারও ট্রেন দুর্ঘটনায় ঝরে গেল ১৬ প্রান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ জনের প্রানহানি হচ্ছে। আর বাংলাদেশ রিসার্চ ইন্সটিউটের গবেষনায় বছরে ১২০০০ এর অধিক মানুষ নিহত ও ৩৫০০০ এর অধিক আহত হচ্ছেন। এসব মৃত্যু স্বাভাবিক হতে পারে না, অনেকটা হত্যার শামিল।
সড়ক দূর্ঘটনারোধে গত বছর একটি আইন পাশ হয়েছিল, যাতে বেপরোয়া গাড়ী চালিয়ে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে হত্যা করলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চলতি মাস থেকেই এ আইন কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটা একটা পজিটিভ দিক, কিন্তু আইনটির একটি জায়গায় ফিটনেসবিহীন মোটরযান চালালে ছয়মাসের কারাদন্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
উন্নত বিশ্বে আপনি ফিটনেসবিহীন গাড়ী রাস্তায় চালাতেই পারবেন না। আর যদি চালান তাহলে সেটা বড় অপরাধের আওতায় পরবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ীর জন্য দূর্ঘটনায় প্রতিবছরে অনেক প্রানহানি ঘটে থাকে। আইনের এ জায়গাটা সংস্কার হলে দূর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা। প্রতিটি দূর্ঘটনার পরে মামলা হয়, এরপর জাজমেন্ট হয়, আপিল হয়, রিভিউ হয় ততদিনে মামলার টেম্পারামেন্ট থমকে যায়।
সড়ক দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে যদি একটা ট্রাইবুনাল থাকতো, তাহলে তদন্ত কর্মকর্তারা চাপে থাকতো, আর এতে করে দ্রুত মামলার প্রতিবেদনও জমা দিত। তাহলে নুতন এ আইনের সুফল পাওয়া যেত বলে সংষ্টিদের ধারনা। তবে এটা হলে শ্রমিক সংগঠনগুলো আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন, তবে এগুলো আমলে না নিয়ে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। আর এ ট্রাইবুনাল গঠন হলে সবাই সরকারের পাশে থাকবে।
আমরা সড়ক দূর্ঘটনায় কোন পরিবারের অভিশাপ নিয়ে এগোতে চাইনা। অভিশাপ নিয়ে কোন জাতি-ই এগোতে পারেনা। আমরা চাই নিরাপদ সড়ক, যেখানে থাকবে না কোন লাশের গন্ধ। সড়কে রক্তের দাগের উপর দিয়ে আমাদের হেঁটে যাওয়া কখনই শুভকর হবেনা। মৃত্যু ব্যাক্তির রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে আমাদের লজ্জিত মুখ যেন বিদ্রুপের হাসি না হেসে আমাদের ব্যার্থতার জয়গান না গায়। তাই আইন ও তার সঠিক প্রয়োগে এখনই সময়। দেরি হয়ে গেলে সড়কে আরো ঝরবে নিরীহ প্রান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *