জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট ॥ জুনিয়র স্কুল সাটিফিকেট (জেএসসি)পরীক্ষার্র্থী মইন খন্দকারকে (১৪) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের(বিএমপি) বিমানবন্দর থানার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন ওই থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক। এমনকি ইয়াবা উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন বিভাগে না জানানোরও অভিযোগ উঠেছে এসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে। বিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
শুক্রবার রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠী খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন বাড়ির সামনে থেকে স্কুলছাত্র মইনকে আটক করে এসআই এনামুল। শনিবার তাকে ১৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত মইনকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মইনের পিতা সাইদুল হক হিরণ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মইন বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের পাশে বসেছিল। এসময় সাদাপোশাকে দুজন এসে মইনকে জাপটে ধরে। তার চিৎকারে তিনিসহ (হিরণ) আশপাশের লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে এলে সাদা পোশাকধারীরা দাবী করেন, মইন ইয়াবা বিক্রি করে। সে যেখানে বসা ছিল তার পাশে ইয়াবা পাওয়া গেছে।
হিরণের জানান, মইনের হাতে থাকা মুঠোফোনটি পুলিশের হাতে নেয়ার পরই ০১৩১৩-৯১৯১২০ নম্বর থেকে কল এসে ক্রেতা সেজে ইয়াবা চাওয়া হয়। হিরণের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটিই সাজানো। একই বাড়ির নুরু মিয়ার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে তার মামলা মোকাদ্দমা চলছে। নুরুর ছেলে হাসান চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিকবার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছে। তার সঙ্গেই যোগাসাজসে পুলিশ ব্যবহার করে মইনকে ফাঁসানো হয়েছে।
২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মাষ্টার জসিম উদ্দিন জানান, ইয়াবা উদ্ধারের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তখন এসআই এনামুল তিনিসহ উপস্থিত অন্যান্যদের ইয়াবা দেখাতে পারেননি। কিশোর মইনকে থানায় নেয়ার পর ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে।
২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি মইন ও তার পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মাষ্টার জসিম উদ্দিন ও কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদ জানান, নীরিহ একটি কিশোরকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়টি উপ কমিশনার (উত্তর) মোকতার হোসেনের সঙ্গে শনিবার দুপুরে সাক্ষাত করে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে এলাকাবাসী এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে এসআই এনামুলের উপর ক্ষুব্ধ হন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। ইয়াবাসহ ছাত্রকে ধরার পর নিয়োম অনুযায়ী কেন তাকে জানানো হয়নি এর জবাব চাওয়া হয়েছে বিমানবন্দর থানার ওসির কাছে।
তবে এসআই এনামুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মইনের সঙ্গেই ইয়াবা পাওয়া গেছে। তিনি উপস্থিত সকলকে ইয়াবা দেখিয়েছেন এবং তাৎক্ষনিক ওয়ারলেসে ম্যাসেজ দিয়েছেন। বিষয়টি গোপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মোকতার হোসেনকে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়ে গেছে। কিন্তু বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সহিত যাচাইবাছাই করছি। বিষয়টি তার দপ্তরের একজন এএসপি তদন্ত করছেন। কোনরকম ত্রুটি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *