নাগরিক রিপোর্ট ॥ বায়ুদুষনে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরে পৌছায় সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও বিষয়টি আলোচনা উঠে এসেছে। কেমন রয়েছে বরিশাল নগরীর বায়ু তা নিয়ে শংকিত নগরবাসী। পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে বরিশাল সার্বক্ষনিক বায়ুমান পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত নগরীর বায়ু দুষনকারী উপাদান থেকে সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। তবে যেসব কারনে বায়ু দুষন ঘটছে সেসব উৎস নিয়ন্ত্রনে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। বিশেষ করে নগরীর অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা, যানবাহনের কালো ধোয়া এবং স্বর্ন কারখানা বায়ু দুষন ঘটালেও ৯ বছর ধরে কোন অভিযান পরিচালনা করেনি পরিবেশ অধিদপ্তর।
বরিশাল সার্বক্ষনিক বায়ুমান পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের সিনিয়র টেকনিশিয়ান আ: জব্বার বলেন, নগরীর বায়ু দুষনে নাইট্রিক অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, সালফারডাই অক্সাইড ও ডাস্ট দায়ী। তবে বরিশালের বায়ুতে এসব উপাদান এখন পর্যন্ত সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। উদাহরন হিসেবে তিনি বলেন, বুধবার নগরীতে নাইট্রিক অক্সাইড ছিল ১.৪৯, যার সহনীয় মাত্রা ১০। একইভাবে নাইট্রাস অক্সাইড ছিল ১৫.৮২, যার সহনীয় মাত্রা ১০ থেকে ২০। কার্বন মনো অক্সাইড ছিল ২, যার সহনীয় মাত্রা ৫। সালফারডাই অক্সাইড ছিল ২১১, যার সহনীয় মাত্রা ৩০০। ডাস্ট বা ধুলিকনা ছিল ৭৭.০২, যার সহনীয় মাত্রা ৭০।
এক সপ্তাহ আগে গত ২৪ নভেম্বর নগরীতে নাইট্রিক অক্সাইড ছিল ২.৯১, যার সহনীয় মাত্রা ১০। নাইট্রাস অক্সাইড ছিল ১২.৭৮, যার সহনীয় মাত্রা ১০ থেকে ২০। কার্বন মনো অক্সাইড ছিল ১.৫, যার সহনীয় মাত্রা ৫। সালফারডাই অক্সাইড ছিল ৬৬৮, যার সহনীয় মাত্রা ৩০০। ডাস্ট বা ধুলিকনা ছিল ১১৯.৩ যার সহনীয় মাত্রা ৭০।
তবে সিনিয়র টেকনিশিয়ান জব্বার বলেন, নগরীর বায়ুতে প্রতি সপ্তাহেই ধুলিকনা এবং সালফারডাই অক্সাইড সহনীয় মাত্রার উপরে ওঠানামা করছে। দুষন রোধে শিল্পকারখানার বর্জ্য, যানবাহনের কালো ধোয়া নিয়ন্ত্রন রাখা দরকার।
জানতে চাইলে পরিবেশ আইনবীদ সংস্থা (বেলা) এর বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরের বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা বিশেষ করে অপসোনীন, ক্যামিস্ট, রেফকো নিয়ন্ত্রনে নাই। এসব কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্য নির্গত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা স্বর্ন কারখানা থেকে বায়ু দুষিত হচ্ছে। যানবাহনের কালো ধোয়া নিয়ন্ত্রনে বহু দিন অভিযান করছে না পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিআরটিএ। তিনি বলেন, নগরীর বায়ু যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থা নিয়ন্ত্রনে রাখার উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি জটিল হবে।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা সাধারন সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নগরীর কাটপট্টি এলাকা সন্ধ্যার পর ঢুকলে স্বর্ন কারখানার কালো ধোয়ায় পথ চলা যায় না। এসিড দিয়ে স্বর্ন পুড়িয়ে নিরব ঘাতক ক্যান্সারের ঝুকি ঘটাচ্ছে এখানে। নগরীর মধ্যে বায়ু দুষন ঘটানো ওষুধ কারখানা অপসোনিন, ক্যামিস্ট এখনও অপসারন হয়নি। তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১ ফেব্রয়ারী বরিশাল নগরীর কাশিপুর রেইনট্রিতলায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। ওই দিন যানবাহনের শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। ওই ঘটনার পর বরিশালে বায়ু দুষন রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া নগরীর সাপানিয়ায় সিটি করপোরেশনের ময়লাখোলার ভাগারের কারনে আসপাশের বৃহৎ এলাকার মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুকি বাড়ছে নগরবাসীর। তিনি বলেন, বায়ু দুষন রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে তারা আন্দোলন কর্মসুচী গ্রহন করবেন।
এব্যপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো: আ: হালিম বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পাওয়ায় তারা বায়ু দুষন রোধে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। নগরীর যেসব শিল্পকারখানা ক্ষতিকর তাদের ছাড়পত্র নবায়ন করা হচ্ছে না। বিশেষ করে ওষুধ কারখানা ক্যামিস্ট ল্যাবরেটরিজ এর ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছেন। অপসনোনি কারখানা নগরী থেকে স্থানান্তর হওয়ার অঙ্গিকার করেছে। স্বর্ন কারখানাগুলোকেও নোটিশ দেয়া হবে। ২০১১ সালের পর থেকে কেন বায়ু দুষন রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি এ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘এখন থেকে নগরীতে কালো ধোয়া রোধে অভিযান চলবে।’
২০১৯-১১-২৮
