দেবরের সঙ্গে পরকিয়া করায় সন্তানসহ পারভীনকে খুন

Spread the love

নাগরিক ডেক্স : মানিকগঞ্জির সাটুরিয়ার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের মা-ছেলের জোড়া খুনের রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার জেরে হত্যা করা হয়েছে মা ও ছেলেকে। 

পুলিশ জানিয়েছে, পারভীন ও তার ছেলের হত্যাকারী দেবর সোলাইমান। পারভীন আক্তার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় সোলাইমান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পরে ওই দিন সকালেই তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। 

শুক্রবার মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে জানানো হয়,  সোলাইমান আদালতে ৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন যে, ভাতিজা আব্দুল নুর হোসেনকে গলায় ও পেটে ৮ স্থানে ছুরি  দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর ভাবি পারভীনকে গলা কেটে হত্যা করে তার লাশ উলঙ্গ করে ঢেকে রাখেন কম্বল দিয়ে। তিনি লাশ উলঙ্গ করে বোঝাতে চেয়েছেন তার ভাবীকে কেউ ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছে। 

সোলাইমান পুলিশকে জানায়, ভাবী পারভীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। ভাবীকে ভাইয়ের সংসার ছেড়ে তার সঙ্গে ঘর সংসার করতে বলেন সোলাইমান। কিন্তু পারভীন রাজী হননি।  তাই প্রতিশোধ নিতে ভাতিজা নুর হোসেন ও পারভীনকে হত্যা করেন তিনি। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তদন্ত আবুল কালাম জানান, ভাবীর সঙ্গে দেবরের ৫/৬ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মা-বাবা সোলাইমানকে অন্যত্র বিয়ে করতে বললেও সে  করবে না বলে জানায়। ওইদিন রাতে সে ভাবীর ঘরে প্রবেশ করে বিয়ে করতে বলে। কিন্তু পারভীন রাজী না হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে দু’জনকে খুন করে।

তবে সোলাইমানের বাবা ক্বারী আব্দুল রহমান বলেন, সোলাইমানের মতো ভালো ছেলে এ গ্রামে একটিও নেই। সে কোন নেশা করে না। পুলিশ তাকে ফাঁসানোর জন্য ধরে নিয়ে গেছে। তার সাথে আমার পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেয় না। 

উল্লেখ্য, সাটুরিয়ার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মজনুর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তার চার বছরের ছেলে নুর হোসেন নিজেদের দু’তলা ফ্লাট বাসায় বুধবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে নুর মাদ্রাসায় পড়তে না যাওয়ায় আশেপাশের  সহপাঠীরা তাকে ডাকতে আসে। এ সময় নুরের দাদী রোমেনা বেগম নাতিকে ডাকতে যান। ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন খাটের ওপর  নাতি নুর ও ছেলের স্ত্রী পারভীনে নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *