পুলক চ্যাটার্জি, অতিথি প্রতিবেদক : দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দূদক) তিন মামলায় স্ত্রীসহ আগাম জামিন পেয়ে শো-ডাউন করে পিরোজপুরে আসলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলোচিত এ.কে.এম.এ আউয়াল। গতকাল মঙ্গলবার তিনি পিরোজপুরের বেকুটিয়া ফেরীঘাট থেকে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে শহরে ঢোকেন। এসময় গাড়ি বহরের সামনে-পেছনে কয়েকশ মোটরসাইকেলে তার সমর্থকরা ছিল। ‘আউয়াল ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়িনাই’ এমন শ্লোগান দিয়ে সমর্থকরা সাবেক সাংসদ আউয়ালকে নিয়ে পিরোজপুর শহরে প্রবেশ করেন। বেকুটিয়া ফেরীঘাট থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রমকালে এ.কে.এম. এ আউয়াল একটি খোলা মাইক্রোবাসে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুপাশের লোকজনকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। ফেরীঘাটে সমর্থকরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরন করেন। গাড়িবহর গিয়ে থামে গোপালকৃঞ্চ টাউন হল মাঠে। সেখানে এ.কে.এম.এ আউয়াল সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপস্থিত কর্র্মী সমর্থকসহ পিরোজপুরবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করে শহরের পাড়েরহাট সড়কের বাসভবনে চলে যান। এ শোভাযাত্রায় আউয়ালের সঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ কোন নেতাকে দেখা যায়নি।
হঠাৎ করে পিরোজপুর শহরে আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ.কে.এম আউয়াল বলেন, ‘শো-ডাউনতো আমি করিনি। স্বতস্ফুর্তভাবে নেতাকর্মীরা আমাকে স্বাগত জানিয়েছে। সমর্থকদের এমন ভালবাসায় আমি মুগ্ধ’।

পিরোজপুরের রাজনীতি সচেতন মানুষের মতে, পর পর দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকাকালে এ.কে.এম.এ আউয়াল তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য আলোচিত চরিত্রে পরিনত হন। সর্বশেষ স্ত্রীসহ দূদকের তিন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। তাই আগাম জামিন পেয়ে নড়বরে ইমেজ পূনরায় সংহত করতেই আউয়াল শোডাউন করে পিরোজপুরে এসেছেন।
এদিকে, হঠাৎ করে পিরোজপুর শহরের ব্যস্ততম সদর রোড এবং ক্লাব রোডে মোটর শোভাযাত্রার কারণে শহরে ব্যাপক যানজট লেগে যায়। এতে কিছুক্ষনের জন্য শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
উল্লেখ্য, খাসজমিতে ভবন নির্মান, অর্পিত সম্পত্তিতে নিজের নামে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি পুকুর ভরাট করে দখলে নেয়ার অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলায় তার স্ত্রী লায়লা পারভিনকেও আসামী করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ ৩টি মামলা দায়ের করেন। গত ৭ জানুয়ারি এ.কে.এম.এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীন হাইকের্টে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের বেঞ্চ তাদের ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
উল্লেখ্য, এ.কে.এম.এ আউয়াল ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে পিরোজপুর- ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পর পর দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় তিনি পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগে প্রতিষ্ঠান করেন পরিবারতন্ত্র ও একক আধিপত্য। ১০ বছরে তার বিরুদ্ধে নির্বাচিত এলাকার তিন উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক দূর্ণীতি, নিয়োগ বানিজ্য এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে দলের মধ্যেই তিনি কোনঠাসা হয়ে পড়েন। ফলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন আউয়াল। ওই নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন পিরোজপুরে ছিলেন না তিনি। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হলেও আউয়ালের অনুপস্থিতিতেই চলত দলের সকল কার্যক্রম।##
