নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের বিএম কলেজে সরস্বতী পূজার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সভায় এ নিয়ে কয়েক শিক্ষকের মধ্যে বাগবিতন্ডাও ঘটে। শিক্ষকদের একাংশ আসন্ন সরস্বতী পূজা কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজন করার প্রস্তাব দিলেও অপরাংশ দাবী তুলেছেন সব বিভাগে আয়োজন করা হোক। তাছাড়া উপ কমিটি গঠন নিয়েও মতবিরোধ দেখা দেয় শিক্ষকদের মধ্যে। এ নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আশায় আগামী শনিবার সভার আহবান করা হয়েছে।
কলেজ সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার শিক্ষক পরিষদে সরস্বতী পূজার আয়োজন নিয়ে সভা করেন শিক্ষকরা। ওই সভায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক প্রস্তাব করেন যে, সব বিভাগে হিন্দু ছাত্র ও শিক্ষক পর্যাপ্ত না থাকায় কেন্দ্রয়ভাবে একটি পূজার আয়োজন করা হোক। উপ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও সিনিয়রদের গুরুত্ব দেয়ার কথা ওঠে। তবে এর বিরোধীতা করেন শিক্ষকদের অপর একটি অংশ। সভা চলাকালে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস এর সাথে রসায়ন বিভাগের প্রভাষক বিকাশ কুসুম দাস এর প্রকাশ্যে বাগবিতন্ডা ঘটে। এসময় আরও কয়েকজন তাতে জড়িয়ে পরেন। পরে শিক্ষক সমিতির সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন হয়। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শনিবার অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে সভা ডাকা হয়।
জানতে চাইলে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, সভায় একজনের প্রস্তাবে, আর একজনে আপত্তি তুলেছেন। যা হয়েছে তা মিমাংশাও হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক বিকাশ জুনিয়ার হয়েও বেয়াদবি করেছেন। তার আচারনগত ত্রুটি রয়েছে। সার্বজনীন এ পুজায় সবার মতামত থাকতেই পারে। যেসব বিভাগে ছাত্র কম তারা কিভাবে আয়োজন করবে। তাছাড়া ফান্ডও কম। কেন্দ্রীয়ভাবে পুজা করলে আকর্ষন হয়।
এ প্রসঙ্গে রসায়ন বিভাগের প্রভাষক বিকাশ কুসুম দাস বলেন, পূজা কেন্দ্রীয়ভাবে হওয়ার কথা ছিল। তবে গত বার যেমন হয়েছে তেমনই হবে। এ নিয়ে সভায় শিক্ষকদের মধ্যে কোন মতবিরোধ বা তর্ক হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।
এব্যপারে বিএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আল আমিন সরোয়ার বলেন, পূজা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক সভা হয়েছিল। তাতে নিজের মধ্যে তর্ক হয়েছে। গত বছরের মত সব বিভাগে পূজা হবে নাকি, নতুন আদলে কেন্দ্রীভাবে হবে তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ২-৩জন শিক্ষক তর্কে জড়িয়ে পরেন। কমিটি গঠন নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। তিনি বলেন, স্বরস্বতি পূজা কেন কয়েকজনে সংকোচিত করতে চান তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শনিবার এ বিষয়ে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক সভা হবে।
২০২০-০১-১৬
