নাগরিক ডেস্ক : বরিশাল আইন কলেজ (ল’ কলেজ) ছাত্রসংসদ কার্যালয় দখল করেছেন কলেজের কথিত ছাত্রলীগ কর্মী নার্গিস আক্তার চায়না। কিছুদিন আগে কার্যালয়টি দখল করে তিনি অনুসারীদের নিয়ে বসেন। চায়নার দাবী, ভবিষ্যতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন হলেই তারাই জিতবেন, তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ নামক সংগঠনকে ছাত্র সংসদ কক্ষ ব্যবহার করতে অনুমতি দিয়েছেন। তবে এরইমধ্যে এক ছাত্রকে ওই কক্ষে ডেকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ ২০০০ সালে সর্বশেষ বরিশাল আইন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। গত উনিশ বছরে নির্বাচন না হওয়ায় কলেজ ভবনের দোতালায় পূর্ব পাশে ছাত্র সংসদ কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকতো।
বুধবার কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রসংসদের জন্য নির্ধারিত কার্যালয়টিতে নার্গিস সুলতানা চায়না কয়েকজন অনুসারী নিয়ে অবস্থান করছেন। চায়না বসে আছেন ছাত্রসংসদ সহ-সভাপতির (ভিপি)’র নির্ধারিত চেয়ারটিতে। পাশের চেয়ারগুলোতে তার অনুসারীরা। জানা গেছে, সম্প্রতি দখলে নেয়ার পর কলেজের টাকায় ভবনটি সংস্কারও করা হয়েছে। চায়না এ কলেজের দীর্ঘ বছরের ক্যাজুয়েল ছাত্রী। তিনি ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদের নাম ব্যবহার করে কলেজে সবক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রযেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ দুটি সংগঠনের একটিরও কমিটি নেই বরিশাল ল কলেজে। কলেজ পূর্ব পাশে চায়নার বাসা।
ছাত্রলীগ নেত্রী নার্গিস সুলতানা (চায়না) এ বিষয়ে বলেন, “আমরা ছাত্রসংসদ দখলে নেইনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ কার্যালয়টি ব্যাবহারের অনুমতি দিয়েছেন।এখানে বসে আমরা সংগঠন কার্যক্রম এবং সাধারন শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করি। এতে অপরাধের কিছু নেই”। নির্বাচিত সংসদ ছাড়া কার্যালয়ে বসা বৈধ কি-না এমন প্রশ্নে চায়না বলেন, “নির্বাচন হলে আমরাই নির্বাচিত হব, এটা নিশ্চিত ভেবেই কার্যালয় দখলে রেখেছি”।
কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অলিউল ইসলাম শোভন বলেন, বুধবার সন্ধায় তিনি ক্লাসে অবস্থানকালে ‘চায়না আপা ডাকছেন’ বলে তাকে ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে চায়না ও তার সহযোগীরা। শোভন বলেন, কলেজে প্রথম বর্ষের পিকনিক আয়োজন নিয়ে আলোচনা করায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
তবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে চায়না বলেন, পিকনিকের বিষয়ে অলিউল একটু ভুল করেছিলো। এজন্য তাকে বোঝাতে ডাকা হয়েছিল। এর বেশি কিছু ঘটেনি।
বরিশাল ল’ কলেজের উপাধ্যাক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রসংসদ কার্যালয় কাউকে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। সেখানে এক শিক্ষককে অনুমতি দেয়া হয়েছে প্রাইভেট পরানোর জন্য। এ সুযোগে হয়তো কেউ অবস্থান নিতে পারে। সেখানে শিক্ষার্থী অলিউলকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তার জানা নেই।
কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, কলেজ ছাত্রসংসদের একটি কার্যালয় রয়েছে, তবে সেটা পরিত্যাক্ত। সেখানে কেউ দখল নিয়েছে এমনটি তার জানা নেই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০২০-০১-২৪
