নাগরিক রিপোর্ট: বরিশাল নগরীতে এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা গ্রহন করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে এ ভূল ধরা পড়ে। নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুটি কক্ষে ভূলপ্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। এ অবস্থায় ফলাফল বিপর্যায়ের আংশকা দেখা দিয়েছে।
এ দুটি কক্ষে নগরীর জগদ্বীস স্বরস্বাত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা ছিল। ভূল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহন করায় এসব পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের আশংকা করছেন। পরীক্ষা শেষে এ খবর জানাজানি হলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. ইউনুস কেন্দ্র পরিদর্শন করে এ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুরানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহনের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন সে বিষয়টিও দেখবেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন বোর্ড চেয়ারম্যান।
সোমবার শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় গতকাল প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুটি কক্ষে পুরনো সিলেবাসের প্রশ্ন পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষে অন্যান্য কক্ষের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মেলানো হলে ভূল প্রশ্নপত্র বিতরনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই দুটি কক্ষের শিক্ষার্থীরা।
কয়েকজন অভিবাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের ভুলে তাদের সন্তানদের শিক্ষাজীবন হুমকীতে পড়েছে। ওই কেন্দ্রের শিক্ষকদের গাফেলতির কারনে এ পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকদের কঠোর বিচার দাবী করেন।
সারস্বত স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহে আলম জানান, হালিমা খাতুন কেন্দ্রের সচিবসহ সংশ্লিস্টদের ভুলে তার প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী ২০২০ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাদেরকে ২০১৮ সালের অনিয়মত পরীক্ষার্থীদের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে। এ কারনে তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ওই শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন দাবী করেন তিনি।
এব্যপারে কেন্দ্র সচিব ও হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম ফখরুজ্জামান ভূলের দায় স্বীকার করে বলেন, ওই দুই কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদেরও গাফেলতি ছিল। পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০২০-০২-০৩
