ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

Spread the love

সৈয়দ জুয়েল: নিজ ভাষার জন্য অকাতরে প্রান দেয়ার জাতি আর দ্বিতীয়টি নেই। জাতি হিসেবে এ গর্ব প্রতিটি বাঙ্গালীর। ন্যায়ের পথে লড়াইয়ের রক্ত কখনো শীতল হয়ে জমাট বাঁধেনা, এ রক্ত যৌবনের চঞ্চলতার বারুদ সমেত, শুধু সামনের দিকেই চলে সব শীতল বৈষম্যের বাঁকা চাহনিকে পাশ কাটিয়ে।
৫২ এর ভাষা আন্দোলনে রাজপথে যে সব সূর্য সন্তানরা অকাতরে বিলিয়ে দিল তাদের তাজা রক্ত,সেই মূল্যবান ত্যাগী রক্তের প্রতিটি কনায় ছিল বাংলাভাষার প্রতি মমত্ববোধ, শ্রদ্ধাবোধ। আর এ থেকেই উৎপত্তি ভালোবাসা বোধের। আর ভালবাসা বোধ তৈরীই হয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে। সালাম, জব্বার, বরকতের মত অকুতোভয় সৈনিকরা ঐ বিশ্বাসকেই লালন করে জীবন বিলিয়ে দিয়ে আমাদের জন্য বাংলা ভাষাকে প্রতিস্ঠিত করেছেন বিশ্বের দরবারে।
আজ তারই সুফল হিসেবে আমরা পেয়েছি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান বরাবরে কানাডার ভ্যানকুয়ার শহরে বসবাসরত দুই বাঙ্গালী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম একুশে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনার দাবী জানান,তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কোর অধিবেশনে একুশে ফেব্রæয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষনা করা হয়।
এ গর্ব পুরো জাতির। যে ত্যাগের বিনিময়ে পেলাম আমাদের ভাষা, সে মায়ের ভাষা বিকৃতি করছে কিছু বাংলিশ, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেখা করাতে দিয়ে বাংলার সঠিক উচ্চারনে পরেছে দূর্বলতার ছাপ। উন্নত বিশ্বে নিজেকে তৈরী করতে,গবেষনায় ইংরেজি ভাষা জরুরী,তবে অবশ্যই বাংলা ভাষাকে পাশ কাটিয়ে নয়। সর্ব স্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যাবহারে শুধু শহীদের রক্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা চিত্তে সন্মান জানানো নয়,এতে করে শুদ্ধি হবে আমাদের সংস্কৃতির প্রতিটি ধারা। প্রাপ্তিতে আনন্দ আছে সত্যি,আর সে প্রাপ্তি যদি হয় রক্তমাখা প্রাপ্তি সেই দাগ সহজে হারাবার নয়। আমাদের ভাষার সাথে আমাদের ভাষা প্রেমী শহীদদের রক্ত মিশে আছে। এ ভাষা হারাবার নয়। শুধু দরকার একটু সচেতনতা,একটু ভালবাসা মিশ্রিত চর্চা। এতেই স্বার্থক হবে-আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রæয়ারী, আমি কি ভূলিতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *