নাগরিক রিপোর্ট: মরন ঘাতক করোনা ভাইরাস আতংকে বাড়ি ফিরছেন দক্ষিনাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল বন্ধ করে দিলেও পরিবারের কাছে যেতে মানুষের পথ চলা থামছে না। স্পীড বোট, নৌকা, ট্রলার, বালু টানা স্টীলের বোট, মাইক্রো, মাহিন্দ্রায় গন্তব্যে ছুটছে যাত্রীরা। এর ফলে ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীও মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। সংক্রামনের আশংকা নিয়ে ৩ থেকে ৪ গুন বেশি ভাড়া গুনে বাড়ি ফিরছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষ। বুধবার বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল, মাওয়া-বরিশাল রুট, চরকাউয়া খেয়াঘাট, ভোলার ইলিশা ঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে প্রশাসন বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। প্রয়োজনে জনগনকে ঘরে থাকতে বাধ্য করা হবে।
বুধবার লক্ষিèপুর মজু চৌধুরীর হাট থেকে দ্বীপ জেলা ভোলার ইলিশা ঘাটে বালু টানা স্টীলবডি নৌযান যোগে হাজার হাজার মানুষ আসছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে এসব মানুষ আসছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। ইলিশা ঘাট থেবে বুধবার দুপুরে সংবাদকর্মী মো: আকতারুল ইসলাম আকাশ জানান, উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে এক একটি নৌযানে সহ¯্রাধিক মানুষ আসছে। ঘাট থেকে ২ কিলোমিটার দুরে চরে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে যাত্রীদের। এসব নৌযানে ১৫০ টাকার স্থলে এখন নেয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। করোনা ঝুকি থাকিলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
মাওয়া থেকে বরিশালে আসা ঠেকাতে বুধবার থেকে পদ্মা নদীতে স্পীড বোট, লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও ট্রলারে ঝুকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ঢাকা থেকে বুধবার বরিশালে আসা ব্যাংকার মাসুদ আহমেদ জানান, মাওয়া ঘাটে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষামান। দক্ষিনে ফেরার জন্য মানুষের আকুতি। তিনি অনেক কষ্টে ট্রলার বোঝাই যাত্রীর সাথে পদ্মা পাড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রলারে প্রতিজনের ভাড়া নিয়েছে ৫০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা। মাওয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশ্য থেমে থেমে অল্প কিছু বাস চলাচল করছে। যেকারনে ট্রাক, মাইক্রো, মোটরসাইকেল, সরকারী গাড়িতে হাজার হাজার ছুটছে গন্তব্যে। বাসের ছাদে প্রতিজনে ভাড়া ৫০০ টাকা। আর বাসের সিটে ৮০০ টাকা। যদিও মাওয়া-বরিশাল ভাড়া প্রতিজনে ছিল ২০০ টাকা। তবে তিনি মাইক্রোতে এসেছেন বরিশাল। প্রতিজনে মাইক্রো ভাড়া ৩০০ টাকার স্থলে ১২০০ টাকা। তাও গাদাগাদি করে করোনা আতংকে ছুটতে হয়েছে বাড়ি। ব্যাংকার মাসুদ জানান, তিনি বিকেল সাড়ে ৩টায় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে নেমেছেন। পথে যানবাহন নেই বললেই চলে। তিনি ভ্যান গাড়িতে নগরীর বর্মান রোড বাসায় পৌছেছেন।
এদিকে বরিশাল নগরীর সড়কও অনেকাংশে ফাঁকা। অল্প কিছু রিকশা আর মোটরসাইকেল ছাড়া কোন যানবাহন চোখে পড়ছে না। অল্প কিছু পথচারী থাকলেও তাদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর চর কাউয়া খেয়া ঘাটে যাত্রী চাপ বেশ। জানা গেছে, সেখানে ২টাকার খেয়া পাড়ার স্থলে বুধবার থেকে প্রতিজন যাত্রী বাবদ নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা।
বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, সরকার গনপরিবহন ও মার্কেট বন্ধ এবং জনগনকে নিজ নিজ বাসায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের পরও কিছু মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। প্রয়োজনে তাদের ঘরে থাকতে বাধ্য করা হবে। করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বরিশালে সেনা বাহিনী টহল শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
২০২০-০৩-২৫
