নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরে আলমের বাড়ি থেকে ত্রানের চাল উদ্ধার হলেও রহস্যজনক কারনে এর প্রতিবেদন দিচ্ছেননা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) । ফলে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়। স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতার প্রভাবে চেয়ারম্যান নুরে আলমও প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা এবং সন্ধা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল রাতে র্যাব- ৮ অভিযান চালিয়ে নুরে আলম বেপারীর বাড়ি থেকে ১৮৪ বস্তা চাল উদ্ধার ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এরপর থেকে নুরে আলম বেপারী আত্মগোপনে আছেন। তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। চেয়ারম্যানের বাড়িতে চাল উদ্ধার হলেও এ ঘটনায় দুই ইউপি সদস্যকে একমাস করে কারাদন্ড এবং তাদের বরখাস্ত করা হয়।
কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ইদ্রিস কবিরাজ বলেন, তার এলাকায় চেয়ারম্যানের ভবনে গত র্যাব ১৮৪ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার করেছে। এরপর থেকে চেয়ারম্যান আত্মগোপনে। চেয়ারম্যানের নির্দেশেই জনগণকে কম পরিমান চাল দিয়ে অবশিষ্ঠ চাল আত্মসাত করা হতো। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দুই ইউপি সদস্যসকে বরখাস্ত করা হলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী এমদাদুল হক দুলাল বলেন, কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি সুপারিশ করেছেন। ইউএনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোন প্রতিবেদন এ পর্যন্ত মন্ত্রাণালয়ে পাঠাননি বলে জানা গেছে। বাড়ি থেকে ১৮৪ বস্তা চাল উদ্ধারের পরও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারন মানুষ শংকিত।
জানা গেছে, চেয়ারম্যান নুরে আলম এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে, ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে।। সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা, আড়িয়াল খা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টিন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গির হাই স্কুল ও কলেজ ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। এরপরও একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বার বার পাড় পেয়ে যাচ্ছে তিনি।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ হাওলাদার বলেন, নুরে আলম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে। তিনি প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে ইউএনও সুজিৎ বলেন, ‘আমি কি ব্যবস্থা নেব’? প্রধানমন্ত্রীর চাল নিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর কোন বিষয় নয়।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারী বিভাগের উপ পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারী চাল নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় এ পর্যন্ত জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান ও বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউপির দুই সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বানারীপাড়ার এক আওয়ামীলীগ নেতাকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। কেদারপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিষয়ে বাবুগঞ্জের ইউএনও’র কাছ থেকে চাল উদ্ধারের ঘটনার পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট পাননি। প্রতিবেদন পেলে চেয়ারম্যান নুরে আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা ও বালু কেটে নদীভাঙ্গন সৃস্টি প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বালুমহলের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট চলমান।
২০২০-০৪-২০
