রহমতপুরে ত্রানের চাল কম দেয়ার পায়তারা, অত:পর ক্ষমা

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ত্রাণের চাল কম দেয়ার পায়তারা করলেন ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহামুদ। সোমবার ত্রানের প্রতিটি প্যাকেটে ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম কম দিয়ে প্যাকেটজাত করাকালে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ধরা পড়ে বিষয়টি। এ নিয়ে তোলপাড় ঘটে ওই এলাকায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সংশ্লিস্টদের কাছে ঘটনা জানাজানি হলে চেয়ারম্যান ক্ষমা চেয়ে প্যাকেট পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, করোনা বিপর্যয়ে সরকারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের অসহায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে ৬.৭৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। যা ওই ইউনিয়নের ৬৭৫ জন অসহায় কর্মহীন পরিবারের মাঝে ২/১দিনের মধ্যে বিতরণের কথা রয়েছে। চালগুলো সোমবার দিনভর রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ কক্ষে প্যাকেট করা হচ্ছিল। প্রতি প্যাকেটে ১২ কেজি করে থাকার কথা থাকলেও পরিমানে কম কম দেয়ার অভিযোগ করেন একাধিক ব্যাক্তি।
রহমাতপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, তিনি গিয়ে ট্যাগ অফিসার শহিদুল ইসলামকে জানতে চান কেন পরিমাপে ৩০০-৫০০ গ্রাম কম দিয়ে প্যাকেট করা হচ্ছে। এর জবাবে ট্যাগ অফিসার তাকে জানান, এর জবাবদেহিতা চেয়ারম্যানের কাছে করা হবে। পরিমানে কম দিয়ে প্যাকেট করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে ত্রান বন্টনকালে ঝামেলা হতে পারে বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) বাবুগঞ্জের ফিল্ড অফিসার শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ত্রান দেয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষনের জন্য রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুপুর দেড়টায় যান। সেখানে গিয়ে বেশ কয়েকটি প্যাকেট মেপে দেখেন ১২ কেজির স্থলে ১১ কেজি দেয়া হয়েছে কোন কোন প্যাকেটে। কোনটায় আবার ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম কম। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুর রহমানকে অবহিত করেন। পিআইও দ্রæত চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসারকে ডেকে প্যাকেটে পরিমাপ ঠিক করার নির্দেশ দেন। পরে চেয়ারম্যান সরোয়ার বিকেলে এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে প্যাকেট পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত হাওলাদার এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকের বলেন, তিনি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর পেয়ে চেয়ারম্যানকে প্যাকেটের পরিমান সঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। চেয়ারম্যান তাকে আস্বস্থ করেছেন যে প্যাকেট ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে পরিমানে কম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে রহমাতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহামুদ বলেন, ত্রানের চালের বস্তায় ঘাটতি থাকায় পরিমাপে সামান্য কম দিচ্ছিল সংশ্লিস্টরা। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইও’র নির্দেশে সঠিক পরিমাপে প্যাকেট করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *