খালে বাঁধ: জলাবদ্ধতায় ৩ গ্রামের ফসলের ক্ষতি

Spread the love

নাগরিক রিপোর্ট: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপনকালে ৩টি গ্রামের পানি প্রবাহের একমাত্র খালটি ভরাট করেছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এখন বর্ষায় পানি নিস্কাশন হতে না পারায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে প্রায় ৫০০ একর জমির ধান, পাট, পান বরজসহ সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভূক্তভোগী কৃষকরা এর প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
জানা গেছে, বরিশাল-ঢাকা মাহসড়কের পাশে ২০১৮ সালের এপিলে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে বরিশাল পল্লী বিদ্যু সমিতি-২ এর আওতাধীন ৩,৩৩/১১ কেভি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নিমার্ণের কাজ শুরু হয়।
বার্থী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি জহুরুল হক বেপারী বলেন, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটি নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালু ভরাট করে কটকস্থল, তাঁরাকুপি ও পশ্চিম বাউগাতি গ্রামের পানি প্রবাহের একমাত্র খালটি ভরাট করে। এ সময় এলাকাবাসী পানি নিস্কাশনের জন্য কালভার্ট নির্মানের দাবিতে গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে কোন সারা না পেয়ে ওই সময়ে এলাকাবাসি কাজে বাঁধা প্রদান করেন। বাঁধা উপেক্ষা করে গত বছর জুন মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাতের আধারে মাত্র একটি পাইপ বসিয়ে রাস্তা নির্মান করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এখন সেই পাইপ দিয়ে কোন প্রকার পানি প্রবাহ হচ্ছে না। পানি প্রবাহ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই এলাকায় জলাবদ্ধা সৃষ্টি হয়।
তাঁরাকুপি গ্রামের বাসিন্দা জানে আলম জানান, জলাবদ্ধতার কারনে তার ২০ শতক জমি অনাবাদি রয়েছে। কটকস্থল গ্রামের মো: মাসুদ মিয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ভাড়ি বর্ষনে জলাবদ্ধতার কারনে তার ৩ একর জমির আঁধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ধান ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত। একই অভিযোগ জানালেন তাঁরাকুপি গ্রামের পারভীন বেগম। একই গ্রামের আ: হালিম বেপারী জানান, পল্লী বিদ্যুতের বাঁধের কারণে তার পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে। কটকস্থল গ্রামের কৃষক কেরামত আলী মাঝি জানান, তার ৪ একর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বৃহস্পতিবার নিজ উদ্যোগে বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের পাশের খালে দেয়া নামে মাত্র পাইটি দু’পাশের মাটি কেটে পানি প্রবাহর জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও পানি প্রবাহ হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভূক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ও পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
জানতে চাইলে গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার চৌধুরী এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান প্যাদা তিনটি গ্রামের জলাবদ্ধাতা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এব্যপারে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান লিখিত আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *