নাগরিক রিপোর্ট: এ সপ্তাহেই ফের বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম। গ্যাস কোম্পানীর বরিশালের পরিবেশকরা জানিয়েছেন, সিলিন্ডার প্রতি এবার ৫০ থেকে ৭০ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোম্পানীগুলো চলতি মাসের শুরুতে এ বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছে। এদিকে এক মাসের ব্যাবধানে এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বরিশালে গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা তাদের বিক্রয় রশিদ না দেয়ায় গ্রাহকদের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। গ্রাহকরাও অভিযোগ করেছেন, বিক্রেতারা এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারন তো করছেই না, বরং বিক্রয় রশিদ না দেয়ার সুযোগে সিলিল্ডার প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিলিন্ডারের গায়ে দাম নির্ধারন করে দেয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঠকছেন সাধারন মানুষ।
এলপি গ্যাস কোম্পানী সেনা এর বরিশালের পরিবেশক আজিম হোসেন বলেন, শনিবার থেকে গ্যাসের দাম ফের বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে রাজধানীতে সকল কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সভায় বসেছেন। তিনি বলেন, এবার ৫০ থেকে ৭০ টাকা বাড়বে। বরিশালের প্রায় ১৫জন পরিবেশক খুচরা বিক্রেতাদের বর্তমানে (১ জুলাই থেকে) সিলিন্ডার প্রতি গ্যাস বিক্রি করছেন ৭৫০ টাকা। বিক্রেতারা তা সাধারন গ্রাহকের কাছে ৮০০ থেকে ৮২০ দরে বিক্রি করছেন। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ টাকা সিলিল্ডার প্রতি কম ছিল। নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়লে খুচরা দোকানে তারা পরিবেশকরা বিক্রি করবেন সিলিন্ডার প্রতি ৮০০ থেকে ৮২০ টাকায়। গ্রাহকের কাছে তা পৌছাবে ৮৯০ থেকে ৯০০ টাকা দরে। এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশক আজিম বলেন, খুচরা বিক্রেতারা বিক্রয় রশিদ চায় না, তাই দেয়াও হয় না।
এলপি গ্যাসের যমুনা (বেসরকারী) কোম্পানীর পরিবেশক মো: শাহিন বলেন, গত ৩ আগস্ট কোম্পানী জানিয়ে দিয়েছে যে গ্যাসের দাম বাড়বে। এটা হয়তো এ সপ্তাহে বাড়তে পারে। তিনি বলেন, সর্বশেষ জুলাই মাসে গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৩০ টাকা বেড়েছিল। এবার ৫০ থেকে ৭০ টাকা বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, এলপি গ্যাসের ২২ থেকে ২৩টি কোম্পানী রয়েছে। প্রতিযোগীতার বাজারে খুচরা বিক্রেতারা বিক্রিয় রশিদ নেয় না, তারাও দেন না। তবে রশিদ দেয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালত সিলিন্ডারের গায়ে দাম নির্ধারন করে দেয়ার নির্দেশ দিলেও তা সম্ভাব নয়। কেন না এটি আন্তর্জাতিক বাজারের দামের উপর নির্ভর করে। একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে, এলপি গ্যাস কোম্পানী ওমেরা, লাফস, পেট্রো ম্যাক্স ডিলারদের কাছ থেকে।
এদিকে নগরীর একাধিক খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, গ্যাসের পরিবেশকরা বিক্রয় রশিদ না দেয়ায় তারা বিরম্বনায় পড়ছেন। গ্রাহকরাও নানা প্রশ্ন করেন। নগরীর ফরেস্টার বাড়ি পুল এলাকার এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রেতা মো: মামুন জানান, এলপি গ্যাসের পরিবেশকরা দাম বাড়ালে তাদের বাড়াতে হয়। তিনি ক্রেতাকে রশিদ দেন কিনা এর কোন জবাব দেননি তিনি।
নগরীর রুপাতলী এলাকার স্কুল শিক্ষক সাদিয়া আফরিন জানান, প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতিতে ফের গ্যাসের দাম বাড়ালে তার চাপ পড়বে সাধারন মানুষের উপর। তিনি বলেন, সরকার এলপি গ্যাসের দাম সভশু ৬০০ টাকা। কিন্তু বেসরকারী এলপি গ্যাসের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাক বেশি হওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ছেন। খুচরা বিক্রেতারাও নানা অযুহাতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা সিল্ডিার প্রতি বেশি নিচ্ছেন সাধারন মানুষের কাছ থেকে।
এব্যপারে বরিশাল জেলা মার্কেটিং অফিসার এ এস এম হাসান সারোয়ার বলেন, গ্যাস কোম্পানীর ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা উভয়কেই বিক্রয় রশিদ বা ম্যামো দিতে হবে। এ বিষয়টি কেন করা হচ্ছে না তা যাচাই করে দেখা হেেচ্ছ। তিনি বলেন, হুট করে গ্যাসের দাম বাড়াতে পারে না। এটিরও একটি নির্দিস্ট নিয়ম থাকা দরকার। তিনি এসব বিষয় অচিরেই ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।
