নাগরিক রিপোর্ট: ঐতিহ্যবাহী বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে একদল মাস্ক পরিহিত মুখোশধারী সন্ত্রাসী। এসময় তারা কলেজের সমাজকল্যান বিভাগে ঢুকে ওই বিভাগের সেমিনার কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। তছনছ করা হয়েছে সমাজকল্যান বিভাগের সকল কম্পিউটার, মনিটর, সিসিটিভি, আসবাবপত্র এবং ২০ বছরের ডিজিটাল তথ্যভান্ডার। লুট করা হয়েছে ওই বিভাগের মুল সিপিইউ। বুধবার বেলা পৌনে ১টার দিকে সংঘটিত এ হামলায় গুরুতর আহত বাচ্চুকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
কলেজের একাধিক সুত্রে জানা গেছে, হামলার শিকার বাচ্চু একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত। ওই পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই পত্রিকার মালিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও হয়েছে। এ ঘটনার জেরে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের এক সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেতে পারে বলে কলেজের দায়িত্বশীল একটি সুত্র দাবী করেছে। হামলায় নেতৃত্বদানকারীরা ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ এক নেতার অনুসারী বলে সুত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে সমাজকল্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আব্দুস সবুর বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে মুখোশধারী ২০/২৫ জন ধারালো অস্ত্র, রড, পাইপ নিয়ে বিভাগে প্রবেশ করে। তারা ঢুকেই কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চুর মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এর পরপরই দ্বিতীয় তলায় উঠে বাচ্চুকে বেদম প্রহর করে। তিনি বলেন, মুখোশধারী হামলাকারীরা বিভাগের শিক্ষকদের কক্ষে ঢুকে এলোপাথারী ভাংচুর করে। তারা সিসি ক্যামেরার মনিটর, টেলিভিশন, টেলিফোন, টেবিলের গøাস ভাংচুর এবং অন্যান্য আসবাবপত্র তছনছ করে। এতে পুরো বিভাগ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। হামলাকারীরা সিসি টিভির রেকর্ড ও একটি সিপিইউ নিয়ে গেছে। এতে বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রায় ২০ বছরের তথ্যভান্ডার ছিল। গুরুতর আহত বাচ্চুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হামলা চলাকালে তিনি প্রশাসনিক ভবনে ছিলেন। দ্রæত এসে হামলাকারীদের কাউকে পাননি। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রফেসর আব্দুস সবুর।
গুরুতর আহত কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, তাকে ফোন করে নম্বরপত্র নেয়ার নামে দুর্বিত্তরা কলেজে ডেকে নেয়। বেলা পৌনে ১টায় সমাজকল্যান বিভাগে পৌঁছামাত্র আগে থেকে অবস্থানকারী মাস্ক পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত লাঠি সোটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতে হামলা করে। সমাজকল্যান বিভাগের স্টাফ শাহাদাৎ বলেন, আহত বাচ্চুর মাথায় হেলমেট ছিল। দুর্বিত্তরা পাইপ, রড, চাপাতি দিয়ে আঘাত করেছে। এতে তার দুই পা, হাত, পিঠে, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী-৩ এ ভর্তি করা হয়েছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, হামলার কারন এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেননি। তবে হামলাকারীরা সংখ্যায় ২০/২৫জন বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি সহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যপারে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হামলার পরপরই উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে হামলাকারী কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কলেজ প্রশাসন থেকে অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

